কালের আবর্তে হারিয়ে গেল ২০১২ সাল। নতুন সূর্যোদয় আমাদের উপহার দিল নতুন বছর ২০১৩। বাস্তব কারণেই মানুষ বিদায় জানায় বিগত বছরকে এবং স্বাগত জানায় নতুন সময়কে। মানুষ নতুন বছরকে স্বাগত জানায় নতুন স্বপ্নে, আর পুরাতন বছরের দিকে তাকায় জিজ্ঞাসার দৃষ্টিতে। এর যৌক্তিক কারণও রয়েছে। স্বপ্নকে সফল করতে হলে বিগত বছরের ঘটনা প্রবাহকে বিশ্লেষণ করতে হয়। যথার্থ বিশ্লেষণ ভুল-ত্রুটি সংশোধন করে সঙ্গত পদক্ষেপ গ্রহণে আমাদের সহযোগিতা করতে পারে। বিগত বছরে আমরা একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হওয়ার...
সোমবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১২
নতুন বছরের শুভেচ্ছা
আমাদের সামগ্রিক জীবন থেকে আরো একটি বছর বিদায় নিলো। শুরু হলো নতুন সৌরবর্ষ দুই হাজার তেরো সাল। বিগত বছরটা ছিল খুন, গুম, হামলা, মামলা ও কেলেঙ্কারির বছর। সেই সাথে বাড়তি বিড়ম্বনা ছিল আইনের শাসনের বিপর্যয়। দুর্নীতির প্রসার ঘটেছে রন্ধ্রে রন্ধ্রে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রেও দুই হাজার বারো সাল ছিল আলোচিত বছর। রাজনৈতিক নিপীড়নের মাত্রা ছিল সীমাহীন। প্রশাসন দলীয়করণের নেতিবাচক প্রভাবে ছিল আড়ষ্ট। শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা ছিল সীমাহীন। নিত্যপণ্যের দাম বাড়া ও জ্বালানির বারবার বাড়তি...
শেষ হয়ে গেল ২০১২ সাল। এ বছরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমান তালে তাণ্ডব দেখিয়েছে ছাত্রলীগ। শতাধিক সংঘর্ষে তারা অস্ত্র হাতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল প্রতিপক্ষের ওপর। কখনও বিরোধী সংগঠনের নেতাকর্মী, কখনওবা নিজ দলীয়রাই ছিল প্রতিপক্ষ। নিরীহ পথচারীরাও রেহাই পায়নি ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের হাত থেকে। একে একে ৯ জনকে হত্যা করেছে তারা। আহত করেছে ১১শ’র মতো। তাদের তাণ্ডবের মুখে বন্ধ করতে হয়েছে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১০টি। তাদের সৃষ্ট মারামারিতে অবাধে ভাংচুর হয়েছে। কত শিক্ষার্থী...
রবিবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০১২
এডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নি :
বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। লক্ষ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। এদেশের মানুষ জানমাল, ইজ্জত-আব্রু, সম্মান, মর্যাদা ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ও সকল প্রকার অপশাসন, শোষণ এবং বঞ্চনার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো। নারী, শিশু, যুবক, বৃদ্ধ তথা সর্বস্তরের মানুষ তার অধিকার নিশ্চিন্তে দ্বিধাহীনভাবে ভোগ করতে পারবে এটাই ছিল প্রতিটি নাগরিকের প্রত্যাশা। স্বাধীনতার ৪১ বছর পর আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি, মৌলিক মানবাধিকার...
নীতিগতভাবে রাষ্ট্রের জনগণের জানমাল রা ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রধানত সরকারের। এ দায়িত্ব পালনের সময় জনস্বার্থের বদলে দলীয় এজেন্ডাকে প্রাধান্য দেয়া কাম্য নয়। এ ছাড়া বিরোধী দলের দাবি ও অধিকারের প্রতিও ল রাখা বাঞ্ছনীয়। রাষ্ট্রের অধীনে সবাই যেন ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার পায়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। আইনের নির্দলীয় প্রয়োগ সুশাসনের শর্ত। এসব গণতান্ত্রিক অধিকারের বিলুপ্তি ঘটলে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং সমাজে হিংসা-সঙ্ঘাত সৃষ্টি হয়। ফলে জনজীবনে শান্তিশৃঙ্খলার ব্যাপক তির আশঙ্কা...
গোলাপ মুনীর
মাছের পচন শুরু হয় মাথা থেকে। তেমনি একটি দেশের ধ্বংসের সূচনা হয় তখন, যখন নিচ থেকে ওপর পর্যন্ত সর্বস্তরে দুর্নীতি ছেয়ে যায়। আমাদের দেশের দুর্নীতির সর্বব্যাপিতা বোধ হয় আজ সেই পর্যায়েই পৌঁছে গেছে। যে দিকেই তাকাই, সেখানেই দুর্নীতির সদর্প পদচারণা। দুর্নীতি যেন সবখানে অবাধ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যে ধরনের দুর্নীতি নামের কেলেঙ্কারির অভূতপূর্ব আকার-প্রকারের ঘটনা একের পর এক দেখতে পাচ্ছি, তা তো দেশবাসীর মধ্যে সে ধারণারই জন্ম দেয়। এ ধারণা আরো গাঢ় হয়, সদ্য প্রকাশিত টিআইবির খানা জরিপ প্রতিবেদনটি...
শনিবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০১২
বিজয় শব্দটি শুনতে কার না ভালো লাগে? আর সেটি যদি হয় দেশ জয়ের, তাহলে তো কথাই নেই। ইতিহাস বারবার ফিরে আসে কিন্তু ইতিহাস থেকে কেউ শিা নেয় না। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ছিল বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় বিজয়। আর তারই ধারাবাহিকতায় প্রতি বছর আমরা বিজয় দিবস পালন করে আসছি।
এ মাসের বিজয়ের আনন্দ সাধারণ মানুষ মনেপ্রাণে উপভোগ করতে পারছে বলে মনে হয় না। বিজয়ের মাসে আমরা কী দেখছি? দেখার কথা ছিল সুখীসমৃদ্ধ বাংলাদেশ। সেখানে দেখলাম, বিশ্বজিতের রক্তে রাঙানো বাংলাদেশ। এই সরকার মতায় আসার পরপরই সরকারের ‘সোনার...
ডা. ও য়া জে দ এ খা ন
সুদীর্ঘ চার দশক পর এখন বাহাস-বিতর্ক চলছে দেশের স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষ শক্তি নিয়ে। রাষ্ট্র ও সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তি, একশ্রেণীর রাজনীতিক এমনকি কথিত বুদ্ধিজীবীরাও প্রতিনিয়ত সভা-সেমিনার, টিভি টক শো ও পত্রপত্রিকার লেখনীতে স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষ শক্তির প্রসঙ্গ টেনে জাতিকে বিভক্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। জাতীয় ঐক্য বিনষ্টের চেষ্টা করছেন নিতান্ত রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালীন হাতেগোনা কিছু ব্যক্তি ছাড়া ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে গোটা জাতি...
মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন
অর্থনীতি, ব্যবসানীতি, সমাজনীতিসহ সব নীতির নিয়ামক শক্তি হলো রাজনীতি। রাজনীতি অনিশ্চিত তো সবকিছুই অনিশ্চিত। সুস্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, এক ভয়ানক অনিশ্চয়তার পথে ধাবিত হচ্ছে দেশের চলমান রাজনীতি।প্রকাশ্যে হাজার হাজার মানুষ ও র্যাব-পুলিশের সামনে বিশ্বজিত্ দাসকে চাপাতি দিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে তাত্ক্ষণিক গ্রেফতার, নির্ভীক সাংবাদিক মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দেয়া, খালেদা জিয়াকে একের পর এক গ্রেফতারের হুমকি প্রদান—নিঃসন্দেহে...
আবদুল হাই শিকদার
সেই কোন শৈশবে ছড়ায় পড়েছিলাম—‘রাম ছাগলে/গামছা গলে/ঘাস দখলে যায়/মরি হায়রে হায়।’ সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর করুণাধন্য, একদার ‘বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের’ সশস্ত্র ‘কমরেড’ তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর মহা মহা বীরত্বপূর্ণ কাণ্ডকারখানা দেখে বহুদিন পর সেই পুরনো কথাগুলো মনে এলো।আভিধানিক অর্থে রামছাগল চতুষ্পদবিশিষ্ট প্রাণী। তৃণভোজী। একথা সবাই জানি। কিন্তু অতীতের মাংসাশী কমরেডদের অনেকে যে জনগণ কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত, ধিকৃত ও পরিত্যক্ত হয়ে, রাজনৈতিক বর্জ্য থেকে ধীরে ধীরে দ্বিপদবিশিষ্ট মনুষ্যরূপী...
শুক্রবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১২
প্রত্যেক গণতান্ত্রিক দেশে জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমেই সরকার গঠিত হয়ে থাকে। দেশে একাধিক রাজনৈতিক দল থাকে। জনগণ স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে তাদের পছন্দের ব্যক্তিকে সংসদে পাঠায়। এভাবে যে দলের বেশি সীট লাভ হয় সেই দলই সরকার গঠন করে এবং দেশ চালায়। আর এটাই গণতন্ত্রের দাবি। নির্বাচন যদি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু না হয় তবে জনগণ যথাযথভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে না এবং তাদের বাঞ্ছিত ব্যক্তিদের সংসদে পাঠানো সম্ভব হয় না। ফলে দেশবাসীর আকাঙ্ক্ষিত সরকারও গঠন হয় না। এতে গণতন্ত্রের মাথায়...
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)