বাংলাদেশের মানুষ আজ দু’ভাগে বিভক্ত। একদিকে ইসলামী আদর্শে বিশ্বাসী ঈমানদাররা অপরদিকে ধর্মবিদ্বেষী নাস্তিক সম্প্রদায়। প্রথমভাগে দেশের সিংহভাগ মানুষ, দ্বিতীয়ভাগে গুটিকয়েক বাম-রাম-নাস্তিক ও তাদের পৃষ্ঠপোষকগণ। দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে এ গুটিকয়েক মানুষের পক্ষ অবলম্বন করতে গিয়ে সরকার এবং সরকার সমর্থক সকল মিডিয়া দেশের সিংহভাগ মানুষের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। দেশের অধিকাংশ মিডিয়া আওয়ামী এবং বাম সমর্থক হওয়ায় যে কোন বিষয়েই সরকারের পালে খুব দ্রুত হাওয়া লাগে এবং তারা অতি সহজেই জনমতকে জবরদস্তিমূলকভাবে তাদের পক্ষে রাখার চেষ্টা করে। শাহবাগে তথাকথিত গণজাগরণের নামে সরকার এবং সরকার সমর্থক মিডিয়াগুলোর এই বাড়াবাড়ি জনগণ দেখেছে অনেকদিন ধরে। কিন্তু যখন অতিষ্ঠ জনতার হৃদয়ের ভাষাগুলোকে ক্ষোভে-বিক্ষোভে রূপ নেয় এবং জনতার মনের ভাষাগুলোকে দাবি আকারে পেশ করে হেফাজতে ইসলাম দেশব্যাপী এক তীব্র ঝাঁকুনি দিতে সক্ষম হয় তখন এ আন্দোলনের পক্ষে জনতার তীব্র ¯্রােত সরকার এবং তার সহযোগীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে বেড়ে ওঠা শাহবাগের কালো সাপের বিষাক্ত দাঁতগুলো খসে পড়ে, তীব্র নখর উঁচিয়ে ধেয়ে আসা হিং¯্র সাপদের নখগুলো ভোঁতা হয়ে যায়, উন্মত্ত হায়েনার অট্টহাসি ম্লান হয়ে তা বিষাদে রূপ নেয়। আজ যেন শাহবাগে কোন পচা দুর্গন্ধময় লাশ মাটিচাপা রাখা হয়েছে। কিন্তু সরকারের আস্ফালন কমেনি, শাহবাগীদের পক্ষে বাম মিডিয়াগুলোর প্রেমে এখনো ভাটা পড়েনি, সুযোগ পেলে তারা গোপন অভিসারের চেষ্টা করে আর বিষোদগার করে দেশপ্রেমিক ঈমানদারদের ব্যাপক জনপ্রিয়তা নিয়ে এগিয়ে চলা হেফাজতে ইসলামীর আন্দোলনের বিরুদ্ধে। সরকার এবং সরকার সমর্থক মিডিয়াগুলো এখন একচেটিয়া অপপ্রচার যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে হেফাজতে ইসলাম এবং এ দেশের আপামর জনতার ঈমানী দাবির বিরুদ্ধে। তারা ঈমানদার জনতার এ আন্দোলনকে একদিকে বলছে ‘জামায়াতে ইসলামীকে বাঁচানোর আন্দোলন’ অপরদিকে বলছে ‘মধ্যযুগীয় দাবি’ ‘দেশ তেরশত বছর পিছিয়ে যাবে’ ‘এর সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই’ ইত্যাদি। হেফাজতে ইসলামের আন্দোলন জনগণের ব্যাপক সমর্থন এবং ভালবাসায় এগিয়ে চলায় তা রুখতে সরকারের বিভিন্ন অপপ্রচারের প্রেক্ষাপটে কিছু কথা বলতে হয় : সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার রাশেদ খান মেনন সাহেব যার চিন্তা, আদর্শ এবং রাজনীতির সাথে এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের আদর্শ ও বিশ্বাসের কোন সম্পর্ক নেই। নিজের দলের প্রতীক নিয়ে কখনো ঢাকা শহরে তার দলের কোন প্রার্থী জামানতও রাখতে পারেননি, যদিও এবার তিনি নৌকার যাত্রী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বলেছেন দেশ তেরশত বছর পিছিয়ে যাবে। দেশ যদি তেরশত বছর পিছিয়ে যায় তাতে কার কি লাভ-ক্ষতি তা পর্যালোচনার দাবি রাখে। তিনি তেরশত বছর পিছিয়ে যাবার মর্মে যা বুঝিয়েছেন তা হচ্ছে আজ হতে তেরশত বছর আগে যে ধরনের শাসন ব্যবস্থা কায়েম ছিল সে ধরনের শাসন ব্যবস্থা কায়েম হবে। এখানেই পর্যালোচনার দাবি রাখে তেরশত বছর আগের শাসন ব্যবস্থা কেমন ছিল? কয়েকটি উদাহরণ দিলেই তা পরিষ্কার হয়ে যাবে ১. গভীর রাত রাস্তায় কোন মানুষ নেই, নিজের চেহারা ঢেকে রাস্তায় হাঁটছেন একজন পথিক, হঠাৎ কান্নার আওয়াজ পেলেন, তিন-চারটি ছোট ছেলে-মেয়ে কাঁদছে। তিনি সেই কুটিরে প্রবেশ করলেন। দেখলেন একজন দুঃখী মা তার সন্তানদের সান্ত¦না দেয়ার জন্য পাতিলে পানি রেখে তা উনুনে গরম করছেন আর সন্তানরা ক্ষুধায় কাঁদছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন আপনার সন্তানরা ক্ষুধায় কাঁদছে আর আপনি শুধু পানি গরম করছেন কেন? ঐ মহিলা উত্তর দিলেন ঘরে কোন খাবার নেই সন্তানদের সান্ত¦না দেয়ার জন্য উনুনে পানি গরম করছি রাত গভীর হলে ওরা ঘুমিয়ে পড়বে তখন আর খাবার চাইবে না। ঐ আগন্তুকের কাছে এ দৃশ্য আর সহ্য হলো না। তিনি চলে গেলেন সরকারি খাদ্য গুদামে। নিজের কাঁধে করে নিয়ে আসলেন এক বস্তা আটা। খাবার তৈরি করলেন নিজ হাতে, ক্ষুধার্ত সেই ছেলে-মেয়েদের ঘুম থেকে জাগিয়ে তুললেন, নিজ হাতে তাদের খাওয়ালেন। তিনি আর কেউ নন অর্ধেক পৃথিবীর যিনি শাসক ছিলেন সেই হযরত ওমর (রাঃ) ২. মাঝরাতে একাকী হাঁটছেন একজন পথিক পথিমধ্যে তিনি এক বাড়িতে একজন নারীর কান্নার আওযাজ পেলেন। দেখলেন একজন পুরুষ একবার ঘরে প্রবেশ করছেন আর একবার বাইরে বের হচ্ছেন। তিনি ঐ পুরুষ লোকটিকে জিজ্ঞেস করলেন আপনি বার বার ঘরের ভিতরে যাচ্ছেন আবার বাইরে বেরুচ্ছেন আর আপনার ঘরে একজন নারীর কান্নার আওয়াজ আসছে কারণ কি?
জবাবে ঐ ব্যক্তি বললেন, আমার স্ত্রী সন্তান সম্ভবা কিন্তু আমি কোন ধাত্রী খুঁজে পাচ্ছি না। ঐ পথিক চলে গেলেন নিজের বাড়িতে। নিজের স্ত্রীকে সাথে করে নিয়ে আসলেন সন্তান সম্ভবা মহিলার খেদমত করার জন্য। কিছুক্ষণ পর ঐ ঘরে একটি সন্তান জন্মগ্রহণ করলো। বিপদগ্রস্ত লোকটির মুখে হাসি ফুটে উঠলো আর যিনি তার নিজের স্ত্রীকে নিয়ে এসেছিলেন খেদমতের জন্য তিনি সকাল হওয়ার পর বাজারে গিয়ে মিষ্টি এনে খাওয়ালেন নবজাতকের পিতা-মাতা এবং প্রতিবেশীদের। এ পথিক আর কেউ নয় অর্ধেক পৃথিবীর শাসক হযরত ওমর (রাঃ) যিনি খিলাফতের দায়িত্ব পাওয়ার পর তার ভাষণে বলেছিলেন, ‘ফোরাত কূলে যদি একটি কুকুরও না খেয়ে মারা যায় তবে তার জন্য আমাকে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে’। তৎকালীন শাসক এবং জনগণ ডাচ ক্যাপিটাল পড়েনি, তারা কালমার্কস, লেনিন এবং মাও সেতুংয়ের লাল বই অধ্যয়ন করে রাষ্ট্র পরিচালনা করেননি, তারা কেউই অক্সফোর্ড থেকে ড. হয়ে শাসক হননি। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী তাদের যুগ ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে সেরা যুগ তথা সোনালী যুগ। ৩. একজন তরুণ তার ফেইসবুকে ইসলামের ইতিহাসের একটি ঘটনা লিখেছেন পাঠকদের জন্য হুবহু তা তুলে ধরছি-‘মদীনার বাজার। পড়ন্ত বিকেলে একজন খদ্দের এসে দাঁড়ালেন একজন সাহাবার দোকানে। একটা পণ্যের দাম শুনে কিনতে সম্মত হলেন ক্রেতা। কিন্তু তাকে আশ্চর্য করে দিয়ে সাহাবা দূরের আরেকটি দোকান দেখিয়ে বললেন পণ্যটি সেখান থেকে কিনতে। দাম একই, জিনিসও একই। আপনি যদি ব্যবসায়ের ছাত্র হন তাহলে লাফিয়ে উঠে বলবেন এই জন্যই ইহুদীরা সারা দুনিয়া নিয়ন্ত্রণ করে; মুসলিমরা ব্যবসা বুঝেই না। খদ্দের মানে হাতের লক্ষ্মী। হাতের লক্ষ্মী কেউ পায়ে ঠেলে? আপনি যদি ঝানু ব্যবসায়ী হন তাহলে বলবেন দুই ক্ষেত্রে খদ্দেরকে প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে পাঠানো যায়; যদি ক্রেতা বেশি খুঁতখুঁতে হয় আর যদি ক্রেতা ঠিক যা চাইছে সেটা আমার কাছে না থাকে। কিন্তু এছাড়া ক্রেতাকে ফিরিয়ে দেয়া মানে ব্যবসায় লাল বাতি জ্বলা। যাহোক, আমাদের ঘটনার ক্রেতাও হয়ত এসব সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতে গেলেন অন্য দোকানটায়। পণ্যটা কিনে ফেরত আসলেন প্রথম দোকানে। সাহাবা তখন অন্য আরেকজন খদ্দেরের সাথে কথা বলছেন। এটাই আল্লাহর বিধান। যত টাকার বিক্রি হওয়ার কথা ছিল, তত টাকার বিক্রি হবেই। এটা আল্লাহর দেয়া রিযক্॥ যা আসার কথা ছিলো তা আসবেই। মাঝখান থেকে আমাদের পরীক্ষা হবে সেই রিযক্্ পেতে গিয়ে আমরা কী হালালে সন্তুষ্ট থাকলাম নাকি হারামের মধ্যে ডুবে গেলাম। সাহাবা জিজ্ঞেস করলেন ক্রেতাকে, ‘পাওনি তোমার জিনিস?’-পেয়েছি, কিন্তু আমি অন্য একটা জিনিসের জন্য এসেছি। -কী?
-তুমি যার কাছে আমাকে পাঠিয়েছিলে সে আমারই ধর্মের মানুষ -ইহুদি। আমরা তোমাদের পছন্দ করি না। কিন্তু তুমি একজন ব্যবসায়ী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে আমাকে পাঠালে, মুসলিম হয়ে একজন ইহুদিকে ব্যবসার সুযোগ করে দিলে? কেন?
-কারণ আল্লাহ আমাকে আজকের মত যথেষ্ট রিযক্্ দিয়েছেন। আর ঐ বেচারা সকাল থেকে বসে আছে- আজ কোন বিক্রিই হয়নি ওর। তারও তো পরিবার আছে। একজন খদ্দের পেলেও তার ন্যূনতম চাহিদাটুকু হয়তো মিটবে।
ক্রেতাটি হতবাক হয়ে ভাবল, যে ধর্ম মানুষের কল্যাণের কথা এভাবে মানুষকে ভাবতে শেখায় সেটা সত্য বৈ মিথ্যা হতে পারে না। পণ্য কিনতে এসে ইহুদি ব্যক্তিটি জান্নাত কিনে নিয়ে চলে গেল।
ইসলাম কিন্তু এভাবেই পৃথিবীতে ছড়িয়েছে। তাত্ত্বিক আলোচনার মাধ্যমে না, জীবনে প্রতিফলনের মাধ্যমে।
সাহাবারা হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের ছাত্র ছিলেন না, তারা রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মসজিদে নববীর ছাত্র ছিলেন। তাদের অভিধানে মনোপলি, কম্প্িিটটর গ্রোথ কার্ভে মার্কেটের মতো কঠিন সব ধারণা ছিলো না। তারা এই পৃথিবীতে আল্লাহর দেয়া রিয্ক তার বান্দাদের সাথে ভাগ করে নিতেন। তারা দু’হাত উপুড় করে মানুষকে দিতেন, কারো কাছে ব্যক্তিগত প্রয়োজন মেটাতে হাত পেতে ভিক্ষে মাঙতেন না। শোষণ-লুণ্ঠন-প্রবঞ্চনা-তো দূরের কথা। এই ইসলাম মানা, একে সমাজে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে ন্যায়বিচার ফিরিয়ে আনা যদি মধ্যযুগে প্রত্যাবর্তন হয়, তেরশ বছর পিছু হাঁটা হয় তাহলে মন্দ কী? যারা এই যুগের মাৎসন্যায় থেকে ছিঁটে-ফোঁটা ভাগ পেয়ে সুখে আছে বলে ভাবছে তাদের জন্য ইসলাম কষ্টকর হবে। কিন্তু ইসলামী শরিয়াহ মেনে নেয়াতে দেশের সিংহভাগ মানুষের জন্য মঙ্গলকর।
মুখে গণতন্ত্রের কথা বললাম কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠের মঙ্গল চাইলাম না এটা কী মুনাফিকি নয়? ইসলামী শরিয়াহ বাঘের গুহা নয়, সাম্যতা আর ন্যায়বিচারের বিধান। ইসলাম মেনে ব্যবসা করলে সবাই উপকৃত হবে। ইসলামি আইনে বিচার করলে মানুষ ইনসাফ পাবে। ইসলাম অনুযায়ী দেশ চালালে কেউ আঙুল ফুলে কলাগাছ হতে না পারলেও সবার ঘরে খাবার থাকবে। অন্তত ক্ষুধার জ্বালায় কাউক আত্মহত্যা করতে হবে না। ইসলামের আগমনে কলাগাছওয়ালারা বেজার হবে। ইসলাম ঠেকাতে তারা আমাদের ভুল বোঝাবে, কিন্তু আমাদের কল্যাণের জন্যই আমাদের চোখ খোলা দরকার। ইসলাম সম্পর্কে জানা দরকার। ইসলাম মেনে নেয়া দরকার। আল্লাহ ক্ষুধা-তৃষ্ণার ঊর্ধ্বে। পাথরের দেবতার মতো তিনি ভোগ চান না। মানুষ কাজ করে তাকে খাওয়াবে সে সুযোগই নেই। আল্লাহ চান মানুষ যেন পৃথিবীতে ভালো থাকে। সেজন্যই ইসলামী শরিয়াহ তাদের কাছে পাঠিয়েছেন। আমরা এই সহজ সত্যটা যত তাড়াতাড়ি বুঝবো ততই মঙ্গল।’
বর্তমান মহাজোট সরকারের এক অংশীদার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের শ্লোগান দিয়ে লাখো তরুণের জীবনকে যারা অন্ধকার রাজনীতির কালো পথে ঠেলে দিয়েছেন, গণতন্ত্র নয়-অস্ত্রই সমাধান, এ মন্ত্রে দীক্ষিত করে বুর্জোয়া রাজনীতির বিরুদ্ধে তরুণদেরকে গলাকাটা রাজনীতির প্রশিক্ষণ দিয়ে চল্লিশ হাজার তরুণের জীবন এবং রক্তের প্রতি বে-ইনসাফী করে আজ তিনি নিজেই বুর্জোয়া রাজনীতির নৌকায় চড়ে এক ধাক্কায় মন্ত্রী হয়ে গেছেন সেই হাসানুল হক ইনু সাহেব বলেছেন ‘হেফাজতের দাবীর সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই’। কত চমৎকার কথা? যিনি কখনো কোন ধর্ম-কর্ম করেন বলে আমাদের জানা নেই, ইসলামী আদর্শ ও ইসলামী রাজনীতি যাদের চক্ষুশূল, সমাজতন্ত্রের নাস্তিক্যবাদী দর্শন যাদের রাজনীতির মূলমন্ত্র: তিনি বললেন- হেফাজতের দাবির সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই!!! কোন মানুষের ইসলামে প্রবেশের প্রথম ধাপ হচ্ছে আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস। হেফাজতের তেরটি দাবীর মধ্যে প্রথম দাবি হচ্ছে সংবিধানে আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃস্থাপন করতে হবে। এ দাবির সাথে যদি ইসলামের কোন সম্পর্ক না থাকে তবে কোন দাবির সাথে ইসলামের সম্পর্ক আছে? মঙ্গল প্রদীপ জালানোয়? পিতা-মাতা মারা গেলে আল্লাহর কাছে দোয়া করার পরিবর্তে তার কবরে ফুল দেয়ার মধ্যে? রাস্তার মোড়ে মোড়ে মূর্তি স্থাপনের মধ্যে? অদৃশ্য বস্তুর অস্তিÍত্ব নেই-অতএব আল্লাহরও কোন অস্তিত্ব নেই (নাউযুবিল্লাহ) এ বিশ্বাসের মধ্যে?
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন হেফাজতের তের দফা মানলে দেশ মধ্যযুগে চলে যাবে। তার সাথে সুর মিলিয়ে আওয়ামী লীগের আরো অনেক নেতাই এ বাক্যটি উচ্চারণ করেছেন। তাদের এ মন্তব্যের অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত অথচ মোক্ষম জবাব দিয়েছেন কবি, কলামিষ্ট ও রাষ্ট্রচিন্তক ফরহাদ মজহার বি.বি.সি.র সাথে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন হেফাজতের চতুর্থ দফা দাবি হচ্ছে অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, এবং নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশা বন্ধ করতে হবে। আপনারা যারা অশ্লীলতার পক্ষে, বেহায়াপনার পক্ষে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশার পক্ষে তারা হাত তুলুন। কিন্তু কোন ব্যক্তিই তার প্রশ্নের জবাব দিতে পারেননি। মূলত নারী লিপ্সু, কপট চরিত্রের অধিকারী এবং ভোগবাদীরাই এ দাবির বিরুদ্ধে কথা বলছে।
বর্তমান সরকারের মাননীয় আইনমন্ত্রী যিনি জনগণের কোন প্রকার সমর্থন ব্যতিরেকে প্রধানমন্ত্রীর বদান্যতায় আইনমন্ত্রী হয়েছেন তিনি বলেছেন- ‘আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপনে জনগণের সমর্থন ছিল না’।
এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের আদর্শ, বিশ্বাস, চেতনা এবং দাবির প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই মরহুম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সংবিধানে আল্লাহর ওপর আস্থা এবং বিশ্বাস স্থাপন করেছিলেন। যিনি বা যারা বলছেন এ বিষয়ে জনসমর্থন ছিল না তাদের অনুরোধ করবো বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসের পাঠ নেয়ার জন্য। কোন রাষ্ট্রপতির মৃত্যুতে ইন্নালিল্লাহ পড়ার লোক পাওয়া যায় নাই আর কারো মৃত্যুতে কোটি জনতা ডুকড়ে কেঁদেছে। কারো জানাযায় শ’খানেক লোক উপস্থিত হয়েছে আর কারো জানাযায় কোটি জনতা উপস্থিত হয়েছে। জনসমর্থনের কথা যদি বলেই থাকেন সাহস থাকলে আপনারা গণভোট দিন। দেখা যাক কোন দিকে জনসমর্থন বেশি। আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাসের নাকি ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের পক্ষে?
শাহবাগী নাস্তিকদের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক হিসেবে যিনি ভূমিকা পালন করছেন সেই শাহরিয়ার কবির বলেছেন- সংবিধানে আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন নাকি ইসলামেরও বিরোধী? কত বড় জাহেল হলে এ ধরনের কথা বলতে পারে?
ইসলাম হচ্ছে মানব জাতির জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান, কুরআন হচ্ছে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ জীবন বিধান। শাহরিয়ার কবিরের বক্তব্যের জবাবে আমাদেরকে জানতে হবে মানুষের প্রকৃত পরিচয় কি? কেন তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে? দুনিয়ায় তার মর্যাদা, দায়িত্বও কি? যিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন তিনি তার চলার জন্য কোন গাইডলাইন দিয়েছে কি না? মানুষের ¯্রষ্টা আল্লাহর পক্ষ থেকে এ সকল প্রশ্নের জবাব নি¤œরূপঃ “আমি মানব ও জীন জাতিকে আমার দাসত্ব করা ব্যতীত অন্য কোন উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করি নাই” (সূরা আয যারিয়াত : ৫৬)। মুহাম্মদ সাঃ এর আগমন এবং দায়িত্ব সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের সুরা তওবা, সুরা সফ এবং সূরা হামীম সাজদায় বলা হয়েছে- ‘তিনি সেই মহান সত্ত্বা যিনি তার রাসূলকে (সাঃ) পাঠিয়েছেন হিদায়াত ও সত্য দীন সহকারে। যাতে তিনি সকল দীনের (জীবন ব্যবস্থার) ওপর ইসলামকে বিজয়ী বেশে প্রতিষ্ঠা করতে পারেন। এতে মুশরিকরা যতই নাখোশ হোকনা কেন আল্লাহ তার দ্বীনকে বিজয়ী করবেন-ই’। আজ যারা হেফাজতের বিরোধিতার নামে, ইসলামী রাজনীতির বিরোধিতার নামে তথাকথিত প্রগতিশীলতা আর আধুনিকতার শ্লোগান তুলছে তারা মূলত এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ঈমান-আকীদা ও বিশ্বাসের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে। তারা ইসলামের শাশ্বত বিধানের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে। তারা কুরআনের চিরন্তন বিধানের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে। তাদের রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, ব্যক্তিগত জীবনে তারা নিজেদের যতই ধার্মিক হিসেবে প্রকাশ করুক না কেন তারা তাদের রাজনৈতিক আদর্শ, বিশ্বাস ও কর্মকা-ের মাধ্যমে ইসলাম ও মুসিলম জাতিসত্ত্বার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে গণ মানুষের দুশমনে পরিণত হয়েছে। দেশপ্রেমিক ঈমানদারদের এ গণদুশমনদের বিরুদ্ধে তীব্র গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা ব্যতীত বিকল্প পথ খোলা নেই।

0 comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন