শনিবার, ৪ মে, ২০১৩

পরিস্থিতি উত্তরণে সহায়ক হবে না


অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধী দলের সাথে সংলাপের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। একই সাথে হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবি নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেছেন। প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে যে বক্তব্য তুলে ধরেছেন, তাতে আগের অবস্থান থেকে সরে আসেননি বরং তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, নীতিগত প্রশ্নে আপস করবেন না। বিরোধী দল নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রশ্নে সংলাপে বসতে রাজি বলে জানিয়েছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সব দল নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে তার আগের মতোই পুনর্ব্যক্ত করেছেন। অর্থাৎ নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রশ্নে বিরোধী দলের সাথে এখনো ক্ষমতাসীন দলের নীতিগত অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। ফলে নির্বাচনকালীন সরকার বিষয়ে সংলাপের প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে বড় ধরনের অগ্রগতি হবেÑ এমনটা আশা করা যায় না। ইতোমধ্যে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, সরকার বিরোধী আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সংলাপের নামে ফাঁদ পাতা হয়েছে। এই ফাঁদে বিরোধী দল পা দেবে না। নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার গঠনে সরকারপক্ষ বিরোধী দল সংলাপে যাবে এটাই বিরোধী দলের মুখ্য দাবি।

অপর দিকে প্রধানমন্ত্রী হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবি নিয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন, এই দাবির অনেক কিছুই বর্তমানে কার্যকর আছে। হেফাজতে ইসলামের প্রধান দাবি সংবিধানে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃপ্রতিষ্ঠা সম্পর্কে তিনি বলেছেন, সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ থাকার পর এর আর প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন না। একই সাথে মহানবী সা:-এর অবমাননাকারীদের শাস্তির আইনের ব্যাপারেও তিনি বলেছেন, বিদ্যমান আইনে এ ধরনের অপরাধের শাস্তি দেয়া সম্ভব। প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করে হেফাজতে ইসলাম দাবি করেছে, জনগণকে বিভ্রান্ত করতে প্রধানমন্ত্রী এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। দাবি আদায়ে হেফাজতে ইসলাম আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। হেফাজতে ইসলামের আন্দোলন গতানুগতিক রাজনৈতিক কোনো আন্দোলন নয়। তাদের দাবিগুলো প্রধানমন্ত্রীর আরো সংবেদনশীলতার সাথে বিবেচনা করা উচিত ছিল। শাহবাগকেন্দ্রিক আন্দোলনকে ঘিরে হেফাজতের আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। মহানবী সা:কে নিয়ে অবমাননাকর লেখালেখির সাথে শাহবাগের ব্লগারদের সংশ্লিষ্টতা ছিল। এ ব্যাপারে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করা দরকার।
বিরোধী দলের সাথে প্রধানমন্ত্রীর সংলাপের প্রস্তাব ও হেফাজতে ইসলামের দাবির ব্যাপারে সরকারের অবস্থান কোনো পক্ষকেই সন্তুষ্ট করতে পারেনি। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরসনে কোনো আশার আলো দেখা যাচ্ছে না। বরং উভয় পক্ষের মধ্যে সন্দেহ ও অবিশ্বাস আরো বাড়িয়ে তুলেছে। এ অবস্থায় বিরোধী দলের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আরো সঙ্ঘাত ও সহিংসতার আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠেছে।
আমরা আশা করি, সরকারের পক্ষ থেকে বিরোধী দলের সাথে সংলাপের ব্যাপারে আন্তরিক হওয়া উচিত। এজেন্ডা ঠিক করে দ্রুত আলোচনা শুরু করা দরকার; না হলে পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটতে পারে। একই সাথে হেফাজতে ইসলামের দাবি নিয়েও সরকারকে ইতিবাচক ভূমিকা নেয়া উচিত। এসব দাবি দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতের প্রতিফলন।

0 comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Ads