শনিবার, ৪ মে, ২০১৩

সাভারের ভবন ধস ও আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ



সাভারে ভবন ধসে অসংখ্য শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় বিদেশী সরকার বাংলাদেশী পণ্য বিশেষ করে তৈরী পোশাক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংগঠনগুলো তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা অব্যাহত রেখেছেন বলে জানা গেছে। পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবরানুযায়ী ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতোমধ্যে বাংলাদেশের শ্রমমান উন্নয়নের জন্য তাদের আমদানি নীতিতে পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছে। কানাডার আমদানিকারকরা বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধার ব্যাপারে সে দেশের সরকারের কাছে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের সুপারিশ করেছে। একইভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও জিএসপি সুবিধা পুনর্মূল্যায়নের বিষয়টি বিবেচনা করছেন। অন্যদিকে ভ্যাটিকানস্থ ক্যাথলিক খৃস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের অবস্থাকে শ্রম দাসের অবস্থার সাথে তুলনা করেছেন। আইএলওর একটি প্রতিনিধিদল দুর্ঘটনা-উত্তর বাংলাদেশ সফরে এসে শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ এবং মৌলিক অধিকার লংঘনের ঘটনা প্রত্যক্ষ করে হতাশা ব্যক্ত করেছেন। এই ঘটনাগুলো এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সম্পর্কে বিদেশীদের ধারণাসমূহকে আমরা হতাশা ব্যঞ্জক ও অপমানকর বলে মনে করি। তবে এর সাথে বাস্তবতার যে মিল নেই তা বলা সম্ভবতঃ ঠিক হবে না। এর জন্য সরকারি ব্যর্থতা ও এক শ্রেণীর শিল্প মালিকদের অধিকতর মুনাফাখোরী দায়ী বলে আমরা বিশ্বাস করি।
শিল্পায়নে বাংলাদেশের অবস্থাকে শিশু অবস্থা বলা যাবে না। পাকিস্তান আমলেই তার যাত্রা শুরু হয়েছে এবং এর মধ্যে অন্ততঃ শ্রমিকদের অধিকার, ন্যায্য পাওনা ও কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ উন্নয়নের ব্যাপারে আমাদের অবস্থা আরো দৃঢ় হবার কথা ছিল। কিন্তু কার্যকর দেখা গেছে যে পাকিস্তান আমলের তুলনায় আমাদের বর্তমান অবস্থা অনেক খারাপ হয়েছে। শোষণ নির্যাতন ও শ্রমিক নিষ্পেষণের মাত্রা এত বৃদ্ধি পেয়েছে যে ক্যাথলিক খৃস্টান গীর্জার প্রধান পর্যন্ত  এর নিন্দা করার সুযোগ পাচ্ছেন। এটা আমাদের জন্য লজ্জাকর।
বাংলাদেশ আইএলও’র সনদে স্বাক্ষরকারী একটি সদস্য দেশ। এই সনদে উল্লেখিত শ্রমিকদের মৌলিক অধিকারের মধ্যে রয়েছে ট্রেড ইউনিয়ন তথা শ্রমিকদের সমিতি গঠনের অধিকার এবং যৌথ দরকষাকষির ভিত্তিতে মজুরীসহ অন্যান্য পাওনা আদায়ের অধিকারের কার্যকর স্বীকৃতি, জবরদস্তি শ্রম আদায়ের বিদ্যমান প্রথার বিলুপ্তি, শিশু শ্রমের নিরসন এবং কর্মসংস্থান ও পেশাগত বৈষম্যের বিলোপ সাধন। আইএলও শ্রমিকদের উপরোক্ত অধিকারগুলোকে সার্বজনীন অধিকারের স্বীকৃতি দিয়েছে। এই সনদে বলা হয়েছে যে নিছক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্থনৈতিক সুবিচার, সামাজিক অগ্রগতি এবং দারিদ্র্য বিমোচনের নিশ্চয়তা দিতে পারে না। সামাজিক জীব এবং উৎপাদনের চালিকা শক্তি হিসেবে শ্রমিকদের সামগ্রিক চাহিদাগুলো পূরণ করা অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে ইসলামী অনুশাসন ও ন্যায়নীতির আলোকে শ্রমিকদের ব্যাপারে ইনসাফ ও আদল প্রতিষ্ঠা একটি মুসলিম দেশ হিসেবে আমাদের অবশ্য কর্তব্য। কিন্তু এই কর্তব্য আমরা পালন করছি না। ফলে শ্রমিকরা বারবার শোষিত ও নির্যাতিত হচ্ছে। আইএলও সনদ এবং ইসলামী শ্রমনীতির যথাযথ বাস্তবায়ন এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান শোষণ নির্যাতনের অবসান ঘটাতে পারে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

0 comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Ads