সোমবার, ৬ মে, ২০১৩

মুসলমানের দেশ হলেও রাষ্ট্র তাদের কতটুকু


বাংলাদেশ ইসলামি রাষ্ট্র নয়। কারণ রাষ্ট্রটা ইসলামি বা কুরআনি বিধিবিধান মোতাবেক চলে না। এ রাষ্ট্রকে ‘মুসলিম’ রাষ্ট্রও এক অর্থে হয়তো বলা যায় না। অনেক ক্ষেত্রে এখানে যে অবস্থা বিরাজ করছে তাতে মনে হয় প্রায় ৯০ শতাংশ নাগরিক বা মুসলমান এক ধরনের সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়েছে। ভোটের প্রয়োজনে এ দেশে মুসলমানেরা মেজরিটি। ভোট শেষ হলে যেন মেজরিটির আর প্রয়োজন নেই। রাষ্ট্রের বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মেজরিটি মানুষের চিন্তাধারার প্রতিফলন নেই। এ দেশের আদালত, জাতীয় সংসদ, মন্ত্রণালয়, সচিবালয়, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, পরিবার, সংস্কৃতি ইসলামি আইনে চলে না। দেশের সংবিধানে আল্লাহর ওপর আস্থার কথা নাকি থাকতে পারবে না। বাংলাদেশে প্রায় সব মানুষই ধর্মবিশ্বাস। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্ম ইসলাম। বাকি মানুষের ধর্ম হিন্দু, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ। ৯০ শতাংশ মানুষের ধর্মের প্রতি ন্যায্য সম্মান দেখাতে গেলেই নাকি ‘সাম্প্রদায়িকতা’ হয়ে যায়।

ইদানীং বলা হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নাকি ধর্ম নেই। ওই চেতনা কি শুধুই ‘বাঙালি’ হওয়ার চেতনা? আর ওই চেতনায় নাকি শুধু সম্প্রদায়বিশেষের সংস্কৃতির চেতনা থাকবে। এমনকি কেউ কেউ বলতে শুরু করেছেন, পূজাও নাকি বাঙালিদের সংস্কৃতি। নতুন স্লোগান ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’, সংস্কৃতি সবার। আমি এবং আমার বাপ-দাদারা চিরায়ত পয়লা বৈশাখের উৎসব দেখে এসেছি। হিন্দু-মুসলমান সবাই মিলেই বাংলা নববর্ষ পালন করেছি। বাঘ-ভাল্লুক, পশুপাখি, দানব-মানবের মূর্তি নিয়ে কোনো মিছিল বাল্যকালে দেখিনি। ব্রিটিশ আমলেও ছিল না। এখন রবীন্দ্র্রনাথের গান ছাড়া কোথাও পয়লা বৈশাখ হয় না। তাহলে কি কবিগুরু ছাড়া আর কেউ পয়লা বৈশাখের গান রচনা করেননি? এই ‘বৈশাখীওয়ালা’দের কাছে জাতীয় কবি নজরুলের কোনো দামই নেই। কবিগুরু যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধী ছিলেন সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ধরতে গেলে, জাতীয় কবি নজরুলকে পড়ানোই হয় না। এ ব্যাপারে বিভিন্ন সরকারের মধ্যে তেমন কোনো ফারাক নেই। মনে করেছিলাম, সেকুলার বা ধর্মহীন রাজনীতির বিপে যারা অবস্থান করছেন, তারা বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য কী হবে সে ব্যাপারে একটা জাতীয় নীতি তৈরি করবেন। না, হয়নি, কারণ জাতীয়তাবাদী ইসলামি চিন্তা-চেতনার রাজনীতিকেরা কার্যত এসব নিয়ে ভাবেন বলে মনে হয় না। নতুন কায়দা পয়লা বৈশাখ পালনের জন্য টাকাপয়সা ভূতে জোগাড় করে। ওই ভূতেরা হয়তো নজরুলের নাম নিলে টাকাপয়সা ঢালবে না।
খুব কাছে থেকেই মুক্তিযুদ্ধ দেখেছি। তখন এমন ‘চেতনা’র কথা শুনিনি। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে অনেকেই নিয়মিত নামাজরোজা করেছেন। কোথাও কোনো বাধা ছিল না। তখন চেতনা একটাই ছিল। আর তা হলো, বাংলাদেশকে স্বাধীন হতেই হবে। সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ করেছেন বাঙালি সৈনিক, বিডিআর, পুলিশ, আনসার, ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক। তাদের সংখ্যা দুই আড়াই লাখের বেশি নয়। রাজনৈতিক নেতা, মুজিবনগরের মন্ত্রীরা দিল্লি সরকার ও ভারতীয় সেনা কমান্ডের সাথে যোগাযোগ রা করেছেন। কবি,  শিল্পী, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীরা রেডিওতে কাজ করেছেন। অনেকেই প্রচারের কাজ করেছেন। প্রত্যেকেই কিছু না কিছু ভাতা পেয়েছেন। শুনতে যদিও ভালো লাগে না, তবুও পরিবেশ পরিস্থিতি বাধ্য করছে একটা কথা বলতে। তাহলো, সশস্ত্র যুদ্ধে যারা অংশগ্রহণ করেছেন তাদের ৯৫ শতাংশ ছিলেন মুসলমান। এর একমাত্র কারণ, দেশের লোকসংখ্যার ৯০ শতাংশই হচ্ছে মুসলমান। সুতরাং মুক্তিযুদ্ধে স্বাভাবিকভাবেই তাদের অবদান বেশি। তখন ধর্মীয় পরিচয়টা নিয়ে আমরা কখনোই কিছু ভাবিনি। আমরা সবাই ছিলাম এক। এখন আমরা বিভক্ত হয়ে গেছি। আওয়ামী লীগ ও একই ঘরানার লোকজন বলছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অসাম্প্রদায়িক (মানে আমাদের একমাত্র পরিচয় হবে ‘বাঙালি’)। এটা হলে ভারত খুশি হয়। ভাবখানা এমন, খাঁটি বাঙালিয়ানার ভেতর ধর্ম থাকবে কেন।
অন্য দিকে, পাকিস্তানি শাসকদেরও বিরাট ভুল ছিল। তারা আলোচনার পথ পরিহার করে শক্তি প্রয়োগের পথ বেছে নিয়েছিল। পাকিস্তানি সামরিক জান্তার হিসাবটা ছিল একেবারেই ভুল। সামরিক শক্তি প্রয়োগ করলে ভারতের প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে তা একেবারেই হিসাবে রাখেনি ওরা। সে সময়ে হঠকারী জুলফিকার আলী ভুট্টো দুই প্রধানমন্ত্রীর ফর্মুলা দিয়ে মনোজগতে পাকিস্তানকে ভেঙে দিয়েছিল। বঙ্গবন্ধু কিন্তু শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আলোচনা চালিয়ে গেছেন। তবে সামরিক জান্তা বঙ্গবন্ধুর সাথে বেঈমানি করেছে, বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। ২৫ মার্চ রাতে সামরিক জান্তা আক্রমণের সব প্রস্তুতি তৈরি করে রেখেছিল। সেটা বঙ্গবন্ধু বিশ্বাস করতে পারেননি। তখন পাকিস্তানিদের সাথে আমাদের বিরোধ ছিল অর্থনৈতিক। শোষণ ও বৈষম্য এত বেড়ে গিয়েছিল যে, তা রোধ করার জন্য বঙ্গবন্ধু ছয় দফা দিয়েছিলেন। ছয় দফায় মূলত পাকিস্তানকে কনফেডারেশন করার প্রস্তাব ছিল। তাই বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হওয়ার আগমুহূর্ত পর্যন্ত স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি। মুক্তিযুদ্ধের ডাকও দেননি। তার হয়তো বিশ্বাস ও আস্থা ছিল, পাকিস্তানিরা আলোচনার পথ বন্ধ করবে না।
৭ মার্চের ভাষণে তিনি বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। তিনি আরো বলেছেন, ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল। যার যা আছে তা নিয়ে প্রস্তুত থেকো।’ এই ঘোষণা নিয়ে এখন গবেষণা চলছে; বিশ্লেষণ চলছে। কেউ বলছেন, এটাই স্বাধীনতার ঘোষণা। প্রশ্ন উঠেছে, ২৪ মার্চের সন্ধ্যা পর্যন্ত জেনারেল ইয়াহিয়ার সাথে তিনি কী বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন? যদি ৭ মার্চের ভাষণই স্বাধীনতার ঘোষণা হয়ে থাকে, ২৫ মার্চ রাতে তিনি গ্রেফতার বরণ করলেন কেন? তাজউদ্দীন আহমদ আর এ কে খন্দকার তো স্পষ্ট করেই বলেছেন, বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার কোনো ঘোষণা দেননি। স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে আওয়ামী লীগ যে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে তা বঙ্গবন্ধু জীবিত থাকাকালে ছিল না। জেনারেল ইয়াহিয়ার সাথে কী আলোচনা হয়েছে বা ২৫ মার্চ বিকেল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু অধীর আগ্রহে কোন সংবাদ পাওয়ার জন্য অপো করেছিলেন, এ বিষয়ে ড. কামাল হোসেন সবই জানেন। কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে তিনি জাতির কাছে সত্য গোপন করে রেখেছেন। তখনকার আলোচনার ফলাফল ড. কামাল সবই জানেন।
’৭২ সালের ১০ জানুয়ারির রেসকোর্স ময়দানের ভাষণে বঙ্গবন্ধু সুস্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন, আমি বাঙালি, আমি মুসলমান।’ অর্থাৎ স্বাধীন বাংলাদেশে পা রেখে প্রথমেই তিনি বলেছিলেন, তিনি বাঙালি ও মুসলমান। তিনি সুস্পষ্ট করে বলে দিয়েছিলেন, বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের মৌলিক পরিচয় কী হবে। আমরা বাঙালি ও মুসলমানÑ এ ব্যাপারে কারো কোনো দ্বিমত নেই। বাংলাদেশের অস্তিত্ব ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিই আমাদের মৌলিক পরিচয়ে বিতর্ক ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এসে। এ জন্য বহিঃশক্তি কোটি টাকা খরচ করে চলেছে। আমি বলব, আওয়ামী লীগের মূল শক্তি যে সাধারণ সমর্থক ও ভোটারেরা, এ ষড়যন্ত্র সম্পর্কে তারা অবগত নয়। তারা অন্ধভাবে দলকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে, প্রয়োজনে জীবন দিচ্ছে। প্রশ্ন উঠতে পারে, বঙ্গবন্ধুর কন্যা দলের নেত্রী তিনি এ ব্যাপারে অবগত আছেন কি? আমি বলব। তিনি অসহায়। তিনি এমন একটি অদৃশ্য জালে আটকা পড়ে গেছেন যেখান থেকে হয়তো আর কোনো দিন বেরিয়ে আসতে পারবেন না। হয়তো কেউ তাকে ব্ল্যাকমেইল করছে। হয়তো কেউ বলছে, আমাদের সাথে থাকুন,আমাদের কথা শুনুন, না হয় পরিণতি হবে মন্দ। সাফ কথা একটি মহলের : দেশটা আমরা স্বাধীন করে দিয়েছি, আমাদের কথা শুনতে হবেই।’ আর তাদের কথার মানে হলো, ইসলামকে গৃহধর্ম হিসেবে গৃহের ভেতরে নিয়ে যাও। সেকুলার হও, ধর্মহীন রাষ্ট্র বানাও। তাহলে দেখবে ৫০ বছরের ভেতরে দেশটা কী সুন্দর আধুনিক হয়ে গেছে। তখন ধর্ম নিয়ে কোনো বাড়াবাড়ি থাকবে না।’ একজন তরুণ ব্লগার তো বলেই ফেলেছে, তারা মতায় গেলেই দেশের মসজিদগুলোকে টয়লেট বানাবে। তাহলে দেশের ৯০ শতাংশ মুসলমানের অবস্থা কী, তা নিশ্চয়ই সবাই বুঝতে পারছেন।
একটা কথা সবার জানা দরকার, এ দেশের আদালত চলে ব্রিটিশ আইন মোতাবেক। সরকারি প্রশাসন ব্যবস্থা চলছে ব্রিটিশদের রেখে যাওয়া নিয়মানুসারে। নামাজ-রোজা না করে, এক অর কুরআন না জেনেও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি হওয়া যায়। এ দেশের সংবিধানে মানুষকেই ‘সার্বভৌম’ বলা হয়েছে; যদিও ইসলামে আল্লাহ পাকের শরিকানাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সুকৌশলে সংবিধানে আল্লাহর সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করা হয়েছে। সংসদে যদি আল্লাহর সার্বভৌমত্ব মেনে নিয়ে কোনো বক্তব্য রাখেন তাহলে আপনার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা হতে পারে। এ দেশের আদালত ইসলামি অনুশাসনের বিরুদ্ধে রায় দিতে পারে। মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য নামকাওয়াস্তে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম রাখা হয়েছে। এই তো ক’দিন আগে আইনমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী দেশের মানুষকে জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার কুরআন ও সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন বানাবে না। আমাদের আইনমন্ত্রী সজ্জন। বিদ্যাবুদ্ধিও কম নয়। রাজনৈতিক চিন্তা চেতনায় তিনি বাম ঘরানার লোক। নিজের চিন্তাচেতনাকে বাস্তবায়নের জন্য তিনি আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার ছাতার নিচে আশ্রয় নিয়েছেন। সংবিধান থেকে তারা আল্লাহর ওপর বিশ্বাস বাদ দিয়েছেন। তারপরও বলে চলেছেন, কুরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন পাস করবেন না। এ ধরনের মনোভাবকে আপনারা কী বলে অভিহিত করবেন? ক’দিন আগে প্রধানমন্ত্রী বলে বসলেন, তিনি মদিনা সনদের ভিত্তিতে দেশ চালবেন। জানি না, কেন তিনি হঠাৎ এমন কথা বললেন। বিতর্ক সৃষ্টি করার জন্য যদি বলে থাকেন তাহলে তিনি সফল হয়েছেন। ইতোমধ্যে মদিনা সনদ নিয়ে অনেক কথা হয়ে গেছে। তিনিও এ ব্যাপারে এখন একেবারেই চুপ। হয়তো বুঝতে পেরেছেন, তাকে হিতাকাক্সীরা ভুল বুঝিয়েছেন। জাতীয় সংসদের সম্মানিত সদস্য মুক্তাদীর চৌধুরী মদিনা সনদ নিয়ে ২০ পাতার একটি পুস্তিকা রচনা করেছেন। পুস্তিকাটি প্রকাশ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। মদিনা সনদ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মূল্যবান বাণী শোনার পর এটি কিনেছি খুবই আগ্রহ সহকারে। কিন্তু কোনো কাজে লাগেনি। কারণ ওই পুস্তিকায় মদিনা সনদ নেই, আছে এমপি সাহেবের ব্যাখ্যা। তিনি যেহেতু আওয়ামী লীগের এমপি, তার দলের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সনদের ব্যাখ্যা করেছেন।
আমার আগের লেখায় বলে, মদিনা সনদের শুরুতেই লেখা রয়েছে, বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। তারপরে লেখা রয়েছে, এই চুক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সা:-এর প থেকে জারি করা হলো। আরো বলা হয়েছে,  চুক্তি নিয়ে কোনো মতভেদ দেখা দিলে ফয়সালা করবেন আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সা: এবং সেই ফয়সালাই চূড়ান্ত ফয়সালা বলে গণ্য হবে। আওয়ামী লীগ সরকার মদিনা সনদের কতটুকু মানে? মুক্তাদীর সাহেব বোঝাতে চেয়েছেন যে, মদিনা সনদ একটি সেকুলার সনদ। তার অবস্থা দেখে হজরত মূসা আ:-এর উম্মতদের কথা মনে পড়ে গেছে। তারা তাওরাতের আয়াতগুলোকে বিকৃত করত এবং নিজেদের সুবিধামতো বদলিয়ে ফেলত। যেসব আয়াত তাদের পছন্দ হতো না, সেগুলো লুকিয়ে ফেলত। নিজেদের সুবিধামতো তাওরাতের ব্যাখ্যা করত। এ জন্যই আল্লাহ পাক তাদের অভিশাপ দিয়েছেন। যদি তাওরাত বা ইঞ্জিলকে বিকৃত না করা হতো তাহলে আল্লাহ তায়ালা শেষ কিতাব আল কুরআন, শেষ ধর্ম ইসলামকে মনোনীত করতেন না। আল্লাহ পাক মানব জাতির জন্যই মুহাম্মদ সা:কে মনোনীত করেছেন এবং বলেছেন মুহাম্মদ সা:-ই শেষ রাসূল ও নবী। তার যুগেও কিছু মানুষ লোক দেখানো ইসলাম গ্রহণ করেছিল। অর্থাৎ এরা ছিল মোনাফেক। এদের অন্তরে ছিল রোগ। গোপনে এরা রাসূল সা: ও ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করত। আমাদের সমাজে ওই ধরনের মানুষ এখনো আছে। এদের নাম আরবি, সমাজে পরিচিত ‘মুসলমান’ হিসেবে। এরা শিতি, মানে ইংরেজিশিতি প্রভাবশালী। এদের অনেকেই রাষ্ট্র চালান ও সংসদ সদস্য হন। কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে এরা সূরা মাউনে বর্ণিত নামাজিদের মতো বললে ভুল হয় না।
স্বাধীনতার পর থেকে বিগত ৪২ বছর দেশটি শাসিত হয়েছে সেকুলার সংবিধান দ্বারা। ব্যক্তি হিসেবে জিয়াউর রহমান ছিলেন ধার্মিক। তিনিই সংবিধানে আল্লাহর নাম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন; বিসমিল্লাহ সংযোজন করেছিলেন। কিন্তু পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থা ঝুঁকে ছিল সেকুলারিজম বা ধর্মহীনতার দিকে। সচিব, বিচারক, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং সমাজের গুরুত্ব্পূর্ণ ব্যক্তিদের ধর্মচেতনার কোনো প্রয়োজন হয় না। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভূমিকা রাখে ধর্মের প্রতি বিরাগ সৃষ্টির জন্য। এমন বহু শিক ছিলেন যারা প্রকাশ্যে নিজেদের ধর্মহীন বলে প্রচার করতেন। অনেকেই ধর্মের বিরুদ্ধে বই লিখেছেন। অনেকেই বলে বেড়াতেন, ধর্ম বিজ্ঞান ও প্রগতিশীলতার বিরুদ্ধে। তারা ‘মুক্ত চিন্তা’র নামে নিয়মিত ধর্মের বিরুদ্ধে কথা বলতেন। সবাই নিজ ‘স্কুল অব থটস’ তৈরি করার চেষ্টায় লিপ্ত ছিলেন। এটাও সত্য, জেনারেল এরশাদ রাজনীতি ও মতাকে দীর্ঘস্থায়ী করার স্বার্থে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করেছিলেন এবং শুক্রবারকে সাপ্তাহিক ছুটির দিন ঘোষণা করেছিলেন। বর্তমান সরকার ধর্মের বিরুদ্ধে যেভাবে উঠেপড়ে লেগেছে, বঙ্গবন্ধু কখনোই এমন কিছু করেননি।

0 comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Ads