শনিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩

কাদের মোল্লা ছাত্র ইউনিযন ও মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং :যাচাই- হওয়া উচিৎ ছিল


 ‘ব্লগার্স এ্যান্ড অন লাইন এ্যাকটিভিস্টের' নামে শাহবাগ চত্বরে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে তার মূল দাবিটি ছিল জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লাকে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত ৫ ফেব্রুয়ারি তাদের রায়ে কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেন। এর প্রতিবাদে তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান অর্থাৎ মৃত্যুদন্ড প্রদানের দাবিতে শাহবাগে অবস্থান শুরু হয়। একদিনের মধ্যেই এই আন্দোলন শুধুমাত্র কাদের মোল্লার মৃত্যুদন্ডের দাবির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে বর্তমানে যাদের বিচার হচ্ছে তাদের সকলের ফাঁসি দাবি করা হয়েছে। নাম ধরে ধরে দাবি উঠেছে, অধ্যাপক গোলাম আযম, মওলানা নিজামী, আলী আহসান মুজাহিদী, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং আব্দুল আলিমসহ সকলের ফাঁসি দাবি করা হয়েছে। বলা হয়েছে যে, তাদের ফাঁসির রায় না নিয়ে শাহবাগে অবস্থানকারী আন্দোলনকারীরা ঘরে ফিরবেন না।
তাদের এই দাবি সরকার মেনে নিয়েছে। সরকার ভালো করে খোঁজ খবর নিয়ে দেখেছে যে, এতোদিন পর্যন্ত যে আইনটি প্রচলিত ছিল সেই আইনে কাদের মোল্লাকে ফাঁসি দেয়া যায় না। আপিলের জন্য বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে গেলেও সুপ্রিম কোর্ট একেবারে খালাশ অবস্থা থেকে ফাঁসি দেবেন না। উল্লেখ করা যেতে পারে যে, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী সরকারের তরফ থেকে আপিল করার কোনো সুযোগ নেই। যদি কোনো আসামীকে এক বা একাধিক অভিযোগে খালাশ দেয়া হয় তাহলে শুধুমাত্র খালাশ দেয়ার সেই অভিযোগের বিরুদ্ধে সরকার পক্ষ আপিল করতে পারে। যেসব বিষয়ে শাস্তি হয়েছে, কয়েকদিন আগে সেসব ব্যাপারে সরকার পক্ষের আপিল করার কোনো বিধান ছিল না। তবে বেশি সাজা হলে সেটি মওকুফ করা বা হ্রাস করার জন্য আপিল করার সুযোগ আসামী পক্ষের সব সময় ছিল। যে ২টি ট্রাইব্যুনাল বর্তমানে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছে সেই ট্রাইব্যুনাল ২টি আওয়ামী সরকারই গঠন করেছে। ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিদের নিয়োগও দিয়েছে এই আওয়ামী লীগ সরকার। ১৯৭৩ সালে ট্রাইব্যুনাল গঠিত হওয়ার পর দুই বার এ আইনটি সংশোধন করেছে এই আওয়ামী লীগ সরকারই। বর্তমান সরকার অর্থাৎ শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় আসার পর আইনটিকে দুইবার সংশোধন করা হয়। এইবার দেখা গেল যে, এতো বজ্র অাঁটুনির পরেও কাদের মোল্লা ফসকা গেরোর মতো কোন ফাঁকে মৃত্যুদন্ড এড়াতে পেরেছেন।
কিন্তু সরকারের ধনুর্ভঙ্গপন, কাদের মোল্লাসহ জামায়াতের সব আসামীর ফাঁসির আদেশ দিতেই হবে। এটি সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং সরকারি ক্ষমতার চরম অপব্যাবহার। আইন বলে যে, অন্যায়ভাবে একটি লোকেরও প্রাণ নিও না। মিথ্যা অভিযোগে কোনো লোকের যদি প্রাণদন্ড হয় তাহলে সেই লোককে বাঁচাতে গিয়ে যদি অপরাধী অন্য আসামী প্রাণে বেঁচে যায় তাহলে তাও মেনে নেয়া যেতে পারে। কিন্তু বিনা অপরাধে কোনো নিরপরাধ লোকের প্রাণ যেন না যায়। কিন্তু এই সরকার ঐসব ন্যায় নীতি এবং আইন-কানুনের কোনো তোয়াক্কা করে না। কাদের মোল্লা এবং অন্যান্য জামায়াত নেতার ফাঁসি দেয়ার জন্য হাসিনা সরকার অত্যন্ত তড়িঘড়ি করে মাত্র তিন-চারদিন সময়ের মধ্যে আইন এমনভাবে সংশোধন করেছে যে, এবার আর কাদের মোল্লা যাবে কোথায়? ফাঁসির দড়ি তাকে গলায় পরতেই হবে।
বিষয়টি এতো ন্যক্কারজনক এবং উৎকটভাবে করা হয়েছে যে, সেটি বাংলাদেশীদের চোখে তো বটেই, বিদেশীদের চোখেও ধরা পড়েছে এ ব্যাপারে ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ' সরকারের মতলব ফাঁস করে দিয়েছে। গত শুক্রবার এই প্রতিষ্ঠানটি এ ব্যাপারে যে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে তার শিরোনাম হলো, ‘আইন সংশোধন হলে বিচার প্রক্রিয়া হাসির বস্তুতে পরিণত হবে : এইচ আরডব্লিউ'। রিপোর্টে বলা হয়, ‘‘যুদ্ধাপরাধী ও রাজাকার কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদন্ডের রায় পরিবর্তন করে ফাঁসির আদেশ কার্যকর করার দাবিতে সম্প্রতি ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধনের যে প্রস্তাব করা হয়েছে তার পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ( এইচআরডব্লিউ)। পাশাপাশি যুদ্ধাপরাধীদের দোষী সাব্যস্ত করা এবং বিচারের রায় দেবার পাশাপাশি প্রয়োজন ছাড়া অযথা শক্তি প্রয়োগ ও অস্ত্র ব্যবহার না করার জন্যও আইন-শৃক্মখলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহবান জানানো হয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, ‘‘১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা নির্যাতন ও গুরুতর অপরাধের শিকার হয়েছেন তাদের অবশ্যই ন্যায়বিচার পাওয়া জরুরি। কিন্তু তাই বলে আদালতের দেয়া রায় অপছন্দ হবার কারণে সরকার তাদের ইচ্ছে অনুযায়ী আইন সংশোধন করার উদ্যোগ নিতে পারে না। এ বিষয়ে সরকারের অবশ্যই সচেতন হওয়া উচিত। আইন সংশোধন করা হলে পুরো বিচার প্রক্রিয়া একটি হাসির বস্তুতে পরিণত হবে।’’
 জানুয়ারির ২১ তারিখ এবং ফেব্রুয়ারি ৫ তারিখে যথাক্রমে আবুল কালাম আজাদ এবং আব্দুল কাদের মোল্লার রায় ঘোষিত হয়। আবুল কালাম আজাদকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হলেও কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়া হয়। কাদেরের রায় ঘোষণার পরেই আওয়ামী লীগ দলের সদস্য এবং কিছু মানুষ রায়ের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে। বিশেষত তরুণ সমাজ ঢাকার শাহবাগে কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে আন্দোলন ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে।
\ দুই \
কাদের মোল্লার রায়টি এখন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ফুল বেঞ্চে যাচ্ছে। একথা বলা হচ্ছে যে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ দেশের সর্বোচ্চ আদালত। তাই তারা কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম কানুনের মধ্যে বন্দী নন। সুতরাং রায়টি  পর্যালোচনার সময় তারা যাতে ন্যায় বিচার করতে পারেন তার জন্য কিছু তথ্যাবলী এখানে তুলে ধরা হচ্ছে। উল্লেখ করা প্রয়োজন যে এসব তথ্য উল্লেখ করেছেন সরকার দলীয় জাতীয় সংসদ সদস্য ‘গোলাম মওলা রনি'।
গত ৭ ফেব্রুয়ারি ‘দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনে' স্বনামে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে জনাব রনি এসব তথ্য পরিবেশন করেন। যেহেতু বিষয়টি একজন মানুষের জীবন-মরণের প্রশ্নের সাথে জড়িত তাই আমি আমার কলামের এই অংশে নিজস্ব কোনো মন্তব্য না দিয়ে জনাব রনির প্রবন্ধ থেকে ব্যাপকভাবে উদ্ধৃতি দিচ্ছি। গোলাম মওলা রনি এমপি তার ঐ নিবন্ধে বলেন, ‘‘এ মামলার প্রথম বিচার্য বিষয়ে সন্দেহ সৃষ্টির চেষ্টা হয়েছে কাদের মোল্লা বনাম কসাই কাদের নিয়ে। প্রসিকিউশনের দাবি, মিরপুরের কুখ্যাত খুনি কসাই কাদেরই আজকের কাদের মোল্লা। প্রমাণ হিসেবে অন্যান্য সাক্ষ্য-প্রমাণের সঙ্গে তৎকালীন পত্রিকায় প্রকাশিত কসাই কাদেরের একটি ছবি উপস্থাপন করা হয়েছে। চশমা চোখে দেয়া কসাই কাদের পাকিস্তানী সেনাকমান্ডার নিয়াজীর পাশে দাঁড়ানো।
অন্যদিকে কাদের মোল্লা তার জবানবন্দিতে বলেছেন, তিনি যুদ্ধকালে তার জন্মভূমি ফরিদপুর জেলার সদরপুরে ছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং নিয়েছেন। সেখানকার বিখ্যাত পীর ধলা মিয়া সাহেবের বাড়িতে থাকতেন এবং তার দুই মেয়েকে পড়াতেন। তিনি বলেন, আমি ধলা মিয়া পীর সাহেবকে চিনতাম এবং তার দুই মেয়েকেও চিনি। পীর ধলা মিয়া সাহেব মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষ শক্তির সমর্থক। তার বড় মেয়ের জামাই একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বুয়েট থেকে পাস করা ইঞ্জিনিয়ার। সরকারের এলজিইডি বিভাগে তিনি উঁচুপদে চাকরি করতেন এবং পিডি বা প্রজেক্ট ডিরেক্টর হিসেবে চাকরি থেকে অবসর নেন। গাফ্ফার ইঞ্জিনিয়ার নামের এই কর্তাব্যক্তি এখনো এলজিইডির বিভিন্ন প্রজেক্টে কাজ করে থাকেন। ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের দীর্ঘকালীন সাধারণ সম্পাদক এসএম নুরুন্নবী যিনি কিনা এখন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা কমিটির সদস্য তিনিও তার সহযোদ্ধা হিসেবে একসঙ্গে রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছেন।
পীর সাহেবের অন্য মেয়ের জামাতা বাংলাদেশের বিখ্যাত অর্থপেডিক্স সার্জন ডা. সিরাজুল ইসলাম একসময় ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালের পরিচালক ছিলেন। এছাড়া পীর সাহেবের বড় ভাই পাকিস্তান আমলে অর্থাৎ ১৯৫৩ সালের দিকে পুলিশের আইজি ছিলেন। নাম মো, আবুল হাসনাত ওরফে ইসমাইল মিয়া। তিনি প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ আতাউর রহমান খানের সহপাঠী ছিলেন। বঙ্গবন্ধু তাকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করতেন এবং তার সেগুনবাগিচার বাড়িতে প্রায়ই আসতেন। তার ছেলেদের মধ্যে মেজর জেনারেল মামুন সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের। অন্য ছেলে মুজিবুর রহমান ফারুক পুলিশের এডিশনাল আইজি এবং বড় ছেলে আবদুস সালাম সিএসপি কর্মকর্তা ছিলেন। এক মেয়ের জমাই ছিলেন লেখক অধ্যাপক আবু রুশদ মতিন উদ্দিন। কাদের মোল্লার জবানবন্দি মতো প্রসিকিউশন এসব বরেণ্য ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসেবে হাজির করতে পারতেন।
\ তিন \
অন্যদিকে আসামী উল্লেখ করেছেন, তিনি ছাত্রজীবনে ছাত্র ইউনিয়ন মতিয়া গ্রুপ করতেন। এক্ষেত্রে তৎকালীন ছাত্র ইউনিয়নের দুই কর্ণধার বর্তমান সরকারের কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এবং শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদকেও সাক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করা যেত।  কাদের মোল্লা উল্লেখ করেছেন তিনি সদরপুরে আরও ৩০-৩৫ জনের একদল যুবককে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং নিয়েছেন ! জনাব রনির মতে প্রসিকিউশনের উচিত ছিল যথাযথ যুক্তি-প্রমাণ উত্থাপন করে এ বক্তব্যটিকে মিথ্যা প্রমাণ করা। সদরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেগম সালেহা মোশারফ বর্তমান সরকারের একজন সংসদ সদস্য। তার স্বামী এডভোকেট মোশারফ হোসেন ছিলেন ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের আমৃত্যু সভাপতি এবং তিনবারের নির্বাচিত এমপি। তাদের আত্মীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এবং আওয়ামী লীগের সভাপতি নান্নু মীরের ছোট ভাই মনি মীরের মেয়ের সঙ্গে বেগম সালেহা মোশারফের বড় ছেলের বিয়ে হয়েছে। কাদের মোল্লার বিবৃতির বিষয়ে এদের চেয়ে নির্ভরযোগ্য সাক্ষী আর কে হতে পারে।
এরপর এমপি জনাব রনি বলেন, যুদ্ধকালীন পুরোটা সময় কাদের মোল্লা পীর সাহেবের বাড়িতে ছিলেন। তার টাকা দিয়ে তিনি চৌদ্দরশি বা সাড়ে সাতরশি বাজারে ব্যবসা করতেন পীর সাহেবের দোকান ঘরে বসে। (দৈনিক কালের কণ্ঠ)। চৌদ্দরশি বাজার ফরিদপুর জেলার মধ্যে অন্যতম বৃহৎ বাজার। স্বাধীনতার সময়ও এই বাজার বসতো প্রতি শনি এবং মঙ্গলবার। কম করে হলেও ৫০ হাজার লোকের আগমন ঘটতো হাটের দিনে। পীর সাহেবের দোকানটি ছিল সবচেয়ে বড় এবং বাজারের একমাত্র দ্বিতল টিনের ঘর। পীর সাহেবের মেজ ছেলে রহিচ ব্যবসা বাণিজ্য দেখতেন। পরবর্তীতে তিনি ডাকাতের গুলীতে মারা যান। কাজেই মুক্তিযুদ্ধের সময় কাদের মোল্লা যদি ওই বাজারে ব্যবসা করে থাকেন, সে ক্ষেত্রে অন্তত এক লাখ লোককে সাক্ষী হিসাবে পাওয়া যাবে। আরও একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসেবে পাওয়া যেতে পারে। সাপ্তাহিক বিচিত্রার এককালীন চীফ রিপোর্টার বিশিষ্ট সাংবাদিক কাজী জাওয়াদ মুক্তিযুদ্ধ ও তৎপরবর্তী সময়ে চৌদ্দরশি বাজারে ব্যবসা করতেন। কাজী জাওয়াদ বিচিত্রা ছেড়ে লন্ডনে বিবিসি বাংলা বিভাগে চাকরি করতেন এবং এখন তিনি বিলাত প্রবাসী। তাকেও সাক্ষী হিসাবে আনা যেত। কাদের মোল্লা জানিয়েছেন, স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি রাইফেলস পাবলিক স্কুলে শিক্ষকতা করেছেন। তার ছাত্র-ছাত্রীদের অনেকেই বর্তমানে সরকারের বিভিন্ন উঁচুপদে এমনকি সচিব পদমর্যাদায় চাকরি করছেন। এই যদি হয় অবস্থা তাহলে সাক্ষ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রসিকিউশন আরও অনেক নির্ভরযোগ্য এবং বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ হাজির করতে পারতেন। তিনি ঢাকা প্রেস ক্লাবের সদস্য। দু-দুইবার নির্বাচিত সহ-সভাপতি ছিলেন। কাজেই মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন এমন একাধিক জাতীয় ও বরেণ্য সাংবাদিককে সাক্ষী হিসেবে হাজির করা যেত।
ন্যায়বিচারের স্বার্থে মহমান্য আপিল বিভাগ যদি এসব তথ্য আমলে নেন এবং যাচাই-বাছাই করেন তাহলে ন্যায়বিচারের ইতিহাসে একটি মাইল ফলক স্থাপিত হবে।

0 comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Ads