বৃহস্পতিবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০১৩

প্রধানমন্ত্রীর অসংখ্যবার বিদেশসফর


সিরাজুর রহমান

রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সাথে হাস্যোজ্জ্বল প্রধানমন্ত্রী : এএফপি
ব্রিটিশ আমলে পূর্ব বাংলার (বর্তমান বাংলাদেশ) প্রায় সবগুলো জমিদারি এবং বিষয়সম্পত্তির মালিকেরা কলকাতায় থাকতেন। বালাম চাল, ইলিশমাছ, বাগানের নারকেল ইত্যাদি রসনাতৃপ্তিকর যাবতীয় খাদ্যদ্রব্য কলকাতায় বসেই তারা পেতেন। তা ছাড়া জমিদারির খাজনা, ধান-চাল আর পাট বিক্রির আয় তো ছিলই। তাদের বিলাসজীবনের যাবতীয় আয়োজন ছিল কলকাতায়। ওখানে বসে তারা কংগ্রেসি রাজনীতি করতেন, আইনসভার পূর্ব বাংলার আসনের অনেকগুলোর প্রতিনিধিত্ব করতেন তারাই। নির্বাচনের আগে নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে তাদের ভোট দেয়ার তাগিদ দিয়ে আসতেন প্রজাদের।
সাতচল্লিশের দেশ ভাগের পর থেকে বাংলাদেশের উন্নতি উল্লেখযোগ্যÑ যদিও সে উন্নতি হয়েছে বিভিন্ন সরকারের আমলে বিভিন্ন গতিতে এবং যতটা উন্নতি হওয়া উচিত ছিল ততটা হয়নি। উন্নতিরও গুণগত মানের প্রকারভেদ হয়েছে। সুসম উন্নয়ন প্রায় সময়ই হয়নি। অনৈতিক নীতির কারণে বিভিন্ন সময়ে সম্পদের বেশির ভাগ চলে গেছে বিশেষ একটা গোষ্ঠীর পকেটে। দুর্নীতি করে কিছু লোক অপ্রত্যাশিতভাবে বড়লোক হয়েছে। কেউ কেউ আবার অসৎ উদ্দেশ্যে, গর্হিতভাবে অর্জিত সম্পদের বেশির ভাগ বিদেশে পাচার করে দিয়েছে।
আরো কিছু বিবেচনা আছে, যেগুলো বিত্তসম্পদের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সমাজে শান্তি আছে কি না, নাগরিকের জান ও মাল নিরাপদ কি না, দেশে ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত কি না এবং উন্নততর জীবনমান অর্জনের প্রস্তুতি হিসেবে সন্তানদের সুশিক্ষার ব্যবস্থা আছে কি না ইত্যাদির ওপর বিশ্বসমাজে কোনো দেশের আসন ও মর্যাদা নির্ভর করে। দুর্ভাগ্যবশত এসব মাপকাঠিতে বাংলাদেশ উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হয়েছে। এবং সে জন্য প্রধানত দায়ী আওয়ামী লীগের সরকারগুলো।
প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পরের দিন (৯ মার্চ) ভোরে তার অফিসে যাওয়ার আমন্ত্রণ করেছিলেন সহকর্মী (স্যার) মার্ক টালি ও আমাকে। তার অফিসে তখন আরো ছিলেন তোফায়েল আহমেদ, রেড ক্রসের চেয়ারম্যান গাজী গোলাম মোস্তফা এবং ঢাকা কলেজের একজন প্রভাষক। নির্বাচনী জয়ের পরে তার কী করা উচিত জানতে চাইলেন প্রধানমন্ত্রী। মার্ক ও আমি প্রায় সমস্বরে বলেছিলাম, বিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের স্বার্থে তার উচিত হবে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে রেডিও এবং টেলিভিশনে ভাষণ দেয়া।
আমাদের বিস্মিত, স্তম্ভিত করে দিয়ে গাজী গোলাম মোস্তফা বলে উঠলেন, ওরা (মূলত জাসদ) কয়েকটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বেয়াদবি করেছে, তাই শেখ মুজিব ঐক্যের ডাক দিয়ে বেতার ভাষণ দেবেন না। তিনি বিজয় মিছিলে (গাজী সাহেবের ভাষায় ‘ভিক্টোরি মার্চ’) যাবেন। প্রধানমন্ত্রী তার প্রস্তাবই গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনা করেছিলেন। গণতন্ত্রের প্রতি শেখ মুজিবের মনোভাব সে দিনই আমরা বুঝে গিয়েছিলাম। (বিস্তারিত বিবরণ লেখকের ‘এক জীবন এক ইতিহাস’ গ্রন্থে)।
শেখ মুজিবুর রহমান প্রকৃতপক্ষে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নয়, স্বৈরতান্ত্রিক পদ্ধতিতে শাসন করেছেন। শেষে আজীবন স্বৈরশাসক হওয়ার লক্ষ্যে সংবিধান পরিবর্তন করে বাকশাল পদ্ধতি চালু করেছিলেন। দেশবাসী অনেক সহ্য করেছিল, আর সহ্য করা তাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। প্রাণ দিয়ে মুজিব নিজের ভুলভ্রান্তির খেসারত দিয়েছেন।
 নির্বাচনী টেলিভাষণ
মুজিবের কন্যা হাসিনা আগে একবার পঁচ বছর প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। বর্তমান দফায় তার প্রধানমন্ত্রিত্বের চার বছর পূর্তি হলো সে দিন। উভয় দফারই প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে প্রতিহিংসার রাজনীতি, বিরোধিতা নির্মূল করার লক্ষ্যে হানাহানি, সহিংসতা ও নির্যাতন, আইনশৃঙ্খলা, ন্যায়বিচার ও সুষ্ঠু প্রশাসনের সমাধি রচনা, সর্বোপরি গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্যকে ধ্বংস করা। সরকারের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে শেখ হাসিনা গত ১১ জানুয়ারি জাতির উদ্দেশে টিভি ও বেতারভাষণ দিয়েছেন। এ ভাষণেও তিনি প্রতিহিংসা, রাজনৈতিক বিরোধীদের প্রতি কাদা ছোড়ার নজির রাখেন এবং তাকে ও তার দলকে ভোট দিয়ে আবারো গদিতে বসার সুযোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ নিয়ে বহু সমালোচনা হয়েছে। এক কথায় তার ভাষণটি ছিল সম্পূর্ণরূপে রাজনৈতিক বক্তৃতা এবং নির্বাচনী প্রচার। গণতন্ত্রের রীতি ও মিডিয়ার এথিকস (নৈতিকতা) অনুসারে বিরোধী দলের নেতাকেও এ ভাষণের জবাব দিতে মোটামুটি একই ধরনের সময়ে এবং সমপরিমাণ সময়জুড়ে ভাষণ প্রদানের সুযোগ দেয়া উচিত। আরো একটি কথা আছে এখানে। ১৯৯১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি শেখ হাসিনা ৪৫ মিনিট ধরে টেলিভিশনে একটি ভাষণ দিয়েছিলেন। তার প্রতিপক্ষ বিএনপি দল এবং সে দলের প্রতিষ্ঠাতা থেকে শুরু করে শীর্ষ নেতাদের প্রতি গালাগালি ও অশ্লীল কুৎসা প্রচার করেছেন তিনি সেই ভাষণে। অনেকেই পরে বলেছেন, ২৭ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে হাসিনা বিজয়ের মুখ থেকে পরাজয় কেড়ে নিয়েছিলেন সে ভাষণটির কারণেই। সর্বশেষ ভাষণেও সে রকমেরই প্রতিক্রিয়া হবে বলে ধরে নেয়া যায়। যা হোক, বিরোধী দলের নেতা বেগম খালেদা জিয়ার অবশ্য কর্তব্য হবে শেখ হাসিনার বক্তব্যের জবাব দেয়ার জন্য অনুরূপ একটি টেলিসম্প্রচার দাবি করা।
প্রধানমন্ত্রী ভাষণ দিয়েছেন যে সপ্তাহে, সে সপ্তাহের শিরোনামগুলোর মধ্যে ছিলÑ শিক্ষকদের ওপর পুলিশের উপর্যুপরি পিপার গ্যাস ¯েপ্র করা, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ওপর দফায় দফায় ছাত্রলীগের হামলা ও মারধর, প্রতিদিনই গণধর্ষণ ও হত্যা, এসিড নিক্ষেপ ইত্যাদি। গুণ্ডামি করার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কর্তৃক ছাত্রলীগ ও যুবলীগকে রাস্তায় নামানো এবং তাদের হাতে বিশ্বজিৎ হত্যা, রাজধানীর ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপির জনপ্রিয় সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মজুমদারের গুম-খুন, প্রায় দৈনন্দিন ছিনতাই, হত্যা ইত্যাদিও সেই সপ্তাহের আলোচিত বিষয় ছিল। আর এ সপ্তাহেই মানবাধিকার সংস্থা অধিকার-এর ২০১২ সালের সমীক্ষা প্রকাশিত হয়েছে। পুনরাবৃত্তির প্রয়োজন নেই। এটুকু বলাই যথেষ্ট যে, প্রতিটি বিবরণ পড়লেই গায়ে কাঁটা দেয়।
 যেমন শিষ্য তেমন গুরু
লিখতে শুরু করেছিলাম প্রধানমন্ত্রীর মস্কো সফর প্রসঙ্গে। বর্তমান মেয়াদে এটা তার কত নম্বর বিদেশভ্রমণ, বলতে পারব না। কেননা সে হিসাব রাখার ধৈর্য হারিয়ে ফেলেছি। সারকথাÑ বাংলাদেশে তার মন বসে না, ব্রিটিশ আমলের হিন্দু জমিদারদের মতো দূরে থেকেই কলকাঠি নাড়তে ভালোবাসেন তিনি। বাংলাদেশে অনেকেরই এখন আর মন বসে না। বিত্তশালীরা (আওয়ামী লীগের কোনো কোনো নেতাসহ) ছেলেপুলেকে বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন, নিজেরাও চলে যাওয়ার সুযোগ খুঁজছেন। মূলত শেখ হাসিনা সরকারের (এবং তার পিতার আমলের) কুশাসনে বাংলাদেশী সমাজের অবস্থা দুঃসহ হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী এখন আর বাংলাদেশে নিজেকে নিরাপদও বিবেচনা করেন না। তিনি কোথাও গেলে সড়কগুলো দুই ঘণ্টা আগে থেকে বন্ধ করে দেয়া হয়। তার সরকারি বাসভবনের কাছাকাছি সড়কগুলো রাত ১১টায় বন্ধ করে দেয়া হয় বলে শুনেছি। প্রধানমন্ত্রীর দেখাদেখি তার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরও বাংলাদেশ ভালো লাগে না। দু’জনে যেন প্রতিযোগিতা করে বিদেশ ভ্রমণ করে থাকেন।
প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই রাশিয়ায় অনেক কিছু শিক্ষণীয় পাবেন। সে দেশেও এমন একজন শাসক আছেন যিনি গদি ছাড়তে সম্পূর্ণ নারাজ। ইচ্ছেমতো সংবিধান সংশোধন করে তিনি কখনো রাষ্ট্রপতি, কখনো প্রধানমন্ত্রী, আবার ঘুরেফিরে রাষ্ট্রপতি। মোট কথা, শেখ মুজিবুর রহমান যেখানে সফল হতে পারেননি, ভøাদিমির পুতিন সেখানে খুবই সফল হয়েছেন এবং তার টেকনিকও শেখ হাসিনার খুবই পরিচিত মনে হবে। প্রতিবাদ ও বিরোধিতা বর্তমান রাশিয়ায় সোভিয়েত আমলের মতোই কঠোর হাতে দমন করা হয়। কয়েকজন নারী (পুষিক্যাট নামে) পুতিনের মৃদু সমালোচনা করে গান গেয়েছিলেন। দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে তাদের। প্রতিবাদ মিছিল বের করার চেষ্টা হলেই পুলিশ  তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
দুর্নীতির ব্যাপারেও পুতিন সরকারের সাথে বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের অনেক সামঞ্জস্য আছে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর পুতিনের ঘনিষ্ঠ কিছু ব্যক্তি (অলিগার্ক নামে পরিচিত) দেশের তেল, গ্যাস ও জ্বালানিসম্পদ থেকে হাজার হাজার কোটি ডলার লুণ্ঠন করে বিদেশে পালিয়েছেন। যুক্তরাজ্যেও এসেছেন কয়েকজন। তাদের একজন চেলসি ফুটবল কাবের মালিক। আরেকজন মালিক হয়েছেন দৈনিক ইনডিপেন্ডেন্ট পত্রিকার। বহু কোটি পাউন্ড ব্যয় করে তাদের অনেকে এ দেশের সবচেয়ে দামি অট্টালিকা ও সম্পত্তিগুলো কিনে নিচ্ছেন। অর্থাৎ, ভøাদিমির পুতিনের কাছে শেখ হাসিনা অনেক কিছু শিখতে পারবেন।
 সমরাস্ত্র ক্রয়ের অন্তর্নিহিত ঝুঁকি
ব্যবসায়-বাণিজ্যও এ সফরে কিছু হবে মনে হচ্ছে। একটা বিষয় নাকি বাংলাদেশের রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ। রূপপুরের এই প্রকল্পটা অত্যন্ত কদর্য রুচির রসিকতায় দাঁড়িয়েছে বলেই মনে হয়। আমার সাংবাদিক জীবনের শুরু থেকেই (৬৩ বছর আগে) রূপপুর নিয়ে এ দেশ-সে দেশের সাথে সমঝোতা চুক্তির কথা শুনে আসছি। সন্দেহ হয়, রাশিয়া সফরের অজুহাত হিসেবেই কোনো কোনো রাজনীতিক এ বাহানা ব্যবহার করে থাকেন। আমার বিবেচনায়, রূপপুর স্থানটা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য মোটেই উপযোগী নয়। গত বছর জাপানের সুনামিতে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বিধ্বস্ত হয়ে যে মহাপ্রলয় ঘটেছিল তা থেকে বহু দেশই এখন সতর্ক হয়েছে। জার্মানি আপাতত পারমাণবিক পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রেখেছে।  হুড়মুড় করে এজাতীয় প্রকল্পের কাজ শুরু করা মোটেই উচিত হবে নাÑ বিশেষ করে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে যখন রাশিয়ার সুনাম নেই। চেরনোবিল কেন্দ্রের বিপর্যয়ের কথা বাংলাদেশের বর্তমান নেতারা ভুলে গেছেন বলেই মনে হয়।
আট হাজার কোটি টাকার সমরাস্ত্র নাকি কেনা হবে প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে। এ ব্যাপারটিও কি যথেষ্ট ভেবে দেখা হয়েছে? শেখ মুজিবের সরকারকে মস্কো দুই স্কোয়াড্রন মিগ বিমান উপহার দিয়েছিল। কিন্তু সেসব বিমানের স্টার্টার মোটর দেয়নি রাশিয়া। শর্ত ছিল, সেসব মোটর চড়া দামে ভারতের কাছ থেকে কিনতে হবে। তা নিয়ে যথেষ্ট তিক্ততা সৃষ্টি হয়েছিল। শেষে বাংলাদেশ মিসর থেকে কিছু স্টার্টার মোটর কিনে এনেছিল।
কী কী সমরাস্ত্রের সওদা করতে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, সে সম্বন্ধে কোনো ধারণা দেয়া হয়নি। সেসব সমরাস্ত্র বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজনীয় কিংবা উপযোগী হবে তো? শেখ হাসিনার প্রথম দফার প্রধানমন্ত্রিত্বকালে রাশিয়া থেকে মিগ-২৯ জঙ্গিবিমান ক্রয় করা হয়েছিল। সেসব বিমান বিবেচিত হয়েছিল বাংলাদেশে ব্যবহারের সম্পূর্ণ অনুপযোগী। এবং মহাদুর্নীতি হয়েছিল সেই লেনদেনে। সে বাবদ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে দুর্নীতির মামলা বিচারাধীন ছিল, তার নিজের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারই সেই মামলা তুলে নিয়েছে।
সমরাস্ত্র ক্রয় খুবই জটিল বিষয়। যে মূল্যে অস্ত্র কেনা হলো তার কয়েক গুণ মূল্যের যন্ত্রাংশ ক্রয়ও অনিবার্য হয়ে পড়ে। সব দেশই  সাধারণত বিশেষ কোনো দেশ থেকে অস্ত্র ক্রয় করে। কেননা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজন হলে এক অস্ত্রের যন্ত্রাংশ অন্য অস্ত্রেও ব্যবহার করা সম্ভব হতে পারে। এত কাল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সমরাস্ত্র সরবরাহ করেছে চীন। এখন আবার পাশাপাশি রাশিয়া থেকেও অস্ত্র আমদানি করা হলে দুই ভিন্ন ধরনের যন্ত্রাংশ ক্রয়ের এবং সৈন্যদের ভিন্ন ভিন্ন প্রকারের প্রশিক্ষণ দানের প্রয়োজন হবে। মনে রাখতে হবে, এসব যন্ত্রাংশ ক্রয়ে সব সময়ই বড় রকমের দুর্নীতির সুযোগ থাকে।
সমরাস্ত্র ক্রয় সব সময়ই কূটনৈতিক সম্পর্কের সাথে জড়িত। রাশিয়া থেকে অস্ত্র ক্রয় করে বর্তমান সরকার কি এই সঙ্কেত দিতে চাইছে যে, তারা চীনের সাথে সম্পর্ক শিথিল করতে চায়?
লন্ডন, ১৫.০১.১৩
serajurrahman34@gmail.com

0 comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Ads