রবিবার, ২০ জানুয়ারী, ২০১৩

বাকৃবিতে ছাত্রলীগের তাণ্ডব রুখতে গণপ্রতিরোধ : লক্ষণ শুভ নয়



ছাত্রলীগ যে আওয়ামী দুঃশাসন ও দুর্বৃত্তায়নের প্রতীক হয়ে উঠেছে এ খবর নতুন নয়। নতুন তথ্য হচ্ছে, ছাত্রলীগের গুণ্ডামির প্রতিক্রিয়ায় জনতা সাগরে ঊর্মি জেগে উঠেছে এবং পরিস্থিতি টালমাটাল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শনিবার ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গ্রুপ ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলি চলাকালে সংলগ্ন গ্রামের রাব্বী নামের দশ বছরের এক শিশু নিহত হয়েছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশ এলাকার গ্রামবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা লাঠিসোটা নিয়ে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলে; পাল্টা হামলা চালিয়ে ছাত্রলীগের উভয় গ্রুপের গুণ্ডাদের এলাকাছাড়া করে; ছাত্রাবাসগুলোতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাকৃবি অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিলুপ্ত করা হয়েছে ছাত্রলীগের বাকৃবি শাখা কমিটি।
শিক্ষাঙ্গনে এবং শিক্ষাঙ্গনের বাইরে ছাত্রলীগের গুণ্ডামি দেশজুড়ে এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। তাদের নিজেদের মধ্যে কিলাকিলি এবং খুনোখুনির ঘটনাও একেবারে কম নয়। এসব অন্তর্কোন্দলে ক্যাম্পাস কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ বাহিনী নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করবে, সেটাও যেন দস্তুরে পরিণত হয়েছে। আলোচ্য ক্ষেত্রেও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। বাকৃবিতে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে হানাহানি চলছিল চার দিন ধরে। প্রথম দিনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসলে, পুলিশ বাহিনী শান্তি রক্ষায় তত্পর হলে কিন্তু মৃত্যুর ঘটনা এবং এমন লঙ্কাকাণ্ড ঘটত না। এবারের ঘটনার তাত্পর্যপূর্ণ দিক হচ্ছে গণপ্রতিরোধ। ছাত্রলীগের গুণ্ডাদের উত্পাতে আশপাশের গ্রামবাসী ত্যক্তবিরক্ত ছিল দীর্ঘদিন ধরে। শিশু রাব্বীর মৃত্যু তাদের ক্রোধের আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছে। তারা সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা ও ভাংচুর চালিয়েছে, অগ্নিসংযোগ করেছে।
আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া অবশ্যই অনুচিত। কিন্তু সাধারণ মানুষ যদি দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর আইনকে মাটিতে গড়াগড়ি খেতে দেখে তবে তারা নিজের হাতে আইন তুলে নিতে প্রয়োচিত হয়। আলোচ্য ক্ষেত্রে তা-ই ঘটেছে। এখন সারা দেশের মানুষ যদি মনে করে যে ছাত্রলীগের গুণ্ডামির হাত থেকে বাঁচার এটাই একমাত্র রাস্তা, তবে পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে বাধ্য। বাকৃবি শাখা ছাত্রলীগ কমিটি বিলুপ্ত করার ঘোষণা এসেছে। প্রশ্ন হচ্ছে, এই কমিটির সদস্যরা গণপিটুনির শিকার না হলে কি এ ধরনের ঘোষণা আসত? কমিটি বিলুপ্ত করে সংগঠনের হারানো মর্যাদা কিছুটা হলেও উদ্ধারের চেষ্টা চালানোর মতো পরিস্থিতি কি ছাত্রলীগের আরও শাখা কমিটিতে সৃষ্টি হয়নি? এসব প্রশ্নের সদুত্তর পাওয়া না গেলে সাধারণ মানুষের ধৈর্যের বাঁধ যে একপর্যায়ে ভেঙে যায় বাকৃবির ঘটনা তার প্রমাণ। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে তার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেষ্ট হতে হবে। হাতে বেশি সময় নেই এবং লক্ষণও ভালো নয়।

0 comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Ads