বুধবার, ৯ জানুয়ারী, ২০১৩

জোয়ার শেষ এবার ভাটার টান


মাসুদ মজুমদার

নতুন বছর শুরু হওয়ার পাঁচ দিনের মাথায় বর্তমান সরকারও ক্ষমতা চর্চার চার বছর পূর্ণ করল। আর বাকি আছে এক বছর। যথারীতি ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় ব্যত্যয় না ঘটলে আগামী বছর আসার আগে অথবা শুরুতেই নির্বাচনের ডামাডোল বেজে ওঠার কথা। তবে নির্বাচনের ডঙ্কা না বাজলেও প্রধান দুটো জোট নির্বাচনমুখী বক্তব্য দেয়া শুরু করেছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, সরকার বিরোধী দলকে অপ্রস্তুত অবস্থায় রাজপথে রেখেই আগাম নির্বাচনের একটা উদ্যোগ নেয়ার চেষ্টা করতে পারে। কয়েকটি জরিপে সরকারকে প্রলুব্ধ করার গোপন ইচ্ছা শব্দের মারপ্যাঁচে অপ্রকাশিত থাকেনি। রাজনীতির সাধারণ নিয়মে পাঁচ বছর মেয়াদি নির্বাচিত সরকার শেষ বছরটিতে জনগণের মন ভরাতে সচেষ্ট থাকে। বাজেট প্রণয়নের সময় খেয়াল রাখা হয় জনগণ না আবার বিগড়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকার পরিচালনার সাথে সংশ্লিষ্টরা ফিতা কেটে উদ্বোধন মহড়া শুরু করেন। অসমাপ্ত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেরও আগাম উদ্বোধন করে জনগণকে নববর্ষ কিংবা অন্য কোনো বিশেষ দিনের শুভেচ্ছা উপহার দেন। যেমনটি ঘটেছে হাতিরঝিল প্রকল্পের ব্যাপারে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্পটির সব কাজ সমাপ্ত হবে আগামী বছর।
জনগণকে ধোঁকা দিয়ে বোকা বানানোও নির্বাচনী কৌশল ভাবা হয়। এ ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার অনেক বেশি কৃতিত্ব দাবি করতে পারে। ব্যর্থতার গ্লানি কাটাতে সাফল্যের ডুগডুগিও বাজানো হয় বেশি। জনগণের মৌলিক সমস্যা ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি আড়াল করে শিশু মৃত্যুহার কমানোর মতো বিষয়গুলো ফলাও করে প্রচার করা হয়। এটা স্বীকৃত সত্য, সরকার নিজের সাফল্যগাথা প্রচার করে জনগণকে নিজেদের দিকে প্রলুব্ধ করবেই। এ ক্ষেত্রে বিরোধী দলের দায়িত্ব জনগণের পক্ষে সমালোচনার ঝড় তুলে ওয়াদা ভঙ্গ ও ব্যর্থতাগুলো তুলে ধরা। এমন রশি টানাটানি আছে বলেই এখনো নির্বাচিত সরকার মন্দের ভালো। বিরোধী দলও ছায়া সরকারের মর্যাদা পায়। বাস্তবে সরকার যেমন বেপরোয়া বিরোধী দলও শক্ত অবস্থান নেয়ার ক্ষেত্রে শৈথিল্য প্রদর্শন করছে।
শেষ বছরে এসে ভোট চাওয়ার ভাষা পাল্টায়। মিনতির সুর বাজে। অসমাপ্ত কাজ শেষ করার জন্য সময় ভিক্ষা করে বলে ‘আরেকবার সুযোগ দিন’Ñ দুধের সাগর, মধুর নহর বইয়ে দেবো। এমন অবস্থায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আক্রমণের ধরনও পাল্টে দেয়। নিজেদের অর্জনগুলো ফলাও করে প্রচার করেই ক্ষান্ত হয় না, প্রতিপক্ষকে নানা ফাঁদে ফেলাতে ফন্দিও আঁটে। বিরোধী দলকে শক্তি সঞ্চয় করতে না দেয়া, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চায় না বলে প্রচারণা চালিয়ে রক্ষণভাগে খেলতে বাধ্য করা। হামলা-মামলা, রিমান্ড, মির্জা ফখরুলসহ জামায়াত নেতাদের গ্রেফতার করে চাপে রাখা সবই রাজনৈতিক ফন্দি। সাধারণভাবে শক্তিমান প্রতিপক্ষকে টপকে যাওয়ার জন্য পুরো সরকার ও প্রশাসনযন্ত্রকে কাজে লাগানো হয়। দুর্বল প্রতিপক্ষকে ভীতির মধ্যে রাখা হয়। সরকার এসব কৌশলের কোনোটি বাদ রাখছে না। একই সাথে ক্ষমতার সুফলভোগীদের নানাভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করে, সেটাও বাদ পড়ছে না। মিডিয়ার যে অংশটি সুফলভোগী তাদেরকে মতলবি জরিপ করে জনমতকে বিভ্রান্ত করার কাজে ব্যবহার করা হয়। তারা মর্জিমতো সংখ্যাতত্ত্বও পাল্টে দিয়ে সরকারি দলকে ও দলীয় মেজাজের জনশক্তিকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। মিডিয়ার বর্ণচোরা কিন্তু ক্ষমতার উচ্ছিষ্টভোগী অংশটি নিরপেক্ষতার ভান করে পাঁচটা সমালোচনামূলক রিপোর্ট ছাপে, আবার দশটা সাফল্যগাথা প্রচার করে জনগণের পরিবর্তনকামী চিন্তার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে। তাতে জনমত কিছুটা হলেও বিভ্রান্ত হয়। মহাজোট সরকার চার বছর আগে ক্ষমতায় এসেছিল একটা বিশেষ প্রেক্ষাপট সৃষ্টি করে। এক-এগারো ধরনের একটা ঘটনা ছিল তাদের কাছে প্রত্যাশিত। এ জন্য লগি-বৈঠার তাণ্ডব সৃষ্টিতেও তাদের বিবেক কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। তা ছাড়া চার বছর আগে যখন ক্ষমতায় এসেছিল তখন তারা দেশী-বিদেশী সব মিত্রশক্তির পৃষ্ঠপোষকতা নিয়েছিল। বাম ধারায় কালচারাল অ্যাকটিভিস্ট থেকে শুরু করে মস্কো-ভারত লবির সব মিত্রকে নিয়েই ক্ষমতায় আসার প্রেক্ষাপট সৃষ্টি করে সেটাকে তারা ষোলআনা কাজে লাগিয়েছে। দল হিসেবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় বসে কোনো সুহৃদকে বঞ্চিত করে নাÑ এ জন্য দলীয়করণ এতটা উৎকটভাবে প্রকাশ পায়।
এখন অনেক প্রবীণ আওয়ামী লীগার ও ছাত্রলীগের সাবেক কোনো কোনো নেতাকে মাতম করতে শুনিÑ বর্তমান আওয়ামী লীগ আর বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ এক নয়। সেকালের আওয়ামী লীগ ও একালের আওয়ামী লীগের মধ্যেও যোজন যোজন নাকি ফারাক। চার-পাঁচ দিন আগে দুটো দৈনিক বাম আধিক্য নিয়ে সংবাদ শিরোনাম করেছে। আওয়ামী লীগে বাম প্রাধান্য নিয়ে তাদের মন্তব্যও প্রকাশিত হয়েছে। বামপন্থী খপ্পরে পড়েছে আওয়ামী লীগ, এই মন্তব্য বাকশাল আমল থেকেই উচ্চারিত হয়ে আসছে। আমাদের কাছে এসব মাতম ও মন্তব্য কোনোটিই অর্থহীন মনে হয় না। আওয়ামী লীগকে বিগত শতকের ষাটের দশক থেকে জানি। মুক্তিযুদ্ধের আগের আওয়ামী লীগও ধোয়া তুলসী ছিল না। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা মওলানা ভাসানী ও শামসুল হকের ব্যাপারে আওয়ামী লীগের আচরণ কেমন ছিল সেটা আমাদের অভিজ্ঞতায় সঞ্চিত রয়েছে। বাকশাল গঠনে যারা প্রলুব্ধ করেছিল তারা কেমন ছিল সেটাও অজানা নয়। এখন যারা বঙ্গবন্ধুকে বড় করার জন্য হোক, অথবা শেখ হাসিনাকে ছোট করার জন্যই হোক, কিংবা নিজেরা পাত্তা না পাওয়ার অভিমান থেকেই হোক, আগের আওয়ামী লীগ ও এখনকার আওয়ামী লীগের মধ্যে তফাৎ খুঁজছেন, তাদের  উদ্দেশ্য কী জানি না। তবে তারা যে সবটুকু সত্য বলছেন না সেটা হলফ করে বলতে পারি। কারণ আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ কখনো বিনয়ের অবতার ছিল না।  তবে মুসলিম লীগের বাই প্রোডাক্ট হিসেবে আওয়ামী লীগ এবং বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক চরিত্র ও মানস গঠিত হয়েছিল মুসলিম লীগ আদলে। মস্কোপন্থী ন্যাপ ও কমিউনিস্ট পার্টির ধারায় নয়। আওয়ামী লীগ সমাজতন্ত্রের জপমালা হাতে নিয়েছিল এক ধরনের ধোঁকায় পড়ে, নয়তো ‘সময়’ ও জনগণকে বোকা বানাতে।
ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ধর্মহীনতার ফেরিওয়ালাও আওয়ামী লীগ ছিল না। বাঙালি জাতীয়তাবাদের ধারায় আওয়ামী লীগ শোষণ-বঞ্চনা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে যুক্তিগ্রাহ্য রাজনীতি করেছে। ছয় দফায় ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের নামগন্ধও ছিল না। মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাপত্রেও তার লেশমাত্র নেই। ’৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ম্যান্ডেট চেয়েছে ৬ দফার, সমাজতন্ত্রেরও নয়, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদেরও নয়। ইয়াহিয়ার কাঠামো মেনেই দলটি নির্বাচন করেছে। তা ছাড়া ‘ইনশাআল্লাহ’ ছিল আন্দোলনের ডাক ও মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা। প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধা জালেমের মোকাবেলায় মজলুমের বিজয় কামনা করেছে। মা-বোনেরা রোজা রেখে নফল নামাজ পড়ে বিজয়ের জন্য প্রার্থনা করেছেন। তাই জোর দিয়ে বলব, আওয়ামী লীগ কখনো ধর্মপন্থী ছিল না, তেমনি ধর্মদ্রোহীও ছিল না। কুরআন-সুন্নাহবিরোধী কিছু না করার অঙ্গীকার ছিল স্পষ্ট। আজ ধর্ম ও আলেম-ওলামাবিদ্বেষী অবস্থান বাম ও ভারতীয় প্রভাবের প্রত্যক্ষ ফসল। আওয়ামী লীগকে ধর্মভীরু ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীর অবস্থান থেকে সরিয়ে আজকের ইসলামীবিদ্বেষী বানিয়ে দেয়ার কৃতিত্ব বামপন্থী ও পরজীবী সুশীলদেরই কৃতিত্ব। এই বিচ্যুতি এক সময় দলটিকে আরো গণবিচ্ছিন্ন করে দেবে।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতার প্রয়োজনে ও দলের স্বার্থে রাতারাতি ইতিহাস পাল্টে দিতে জানে। যারা ক’জন আওয়ামী  গডফাদারের ওপর দোষ চাপাতে গিয়ে তাদেরকে বখে যাওয়ার জন্য অভিযুক্ত করেনÑ তারা ঠিকটা বলেন না। তারা শ্রেণীচরিত্র ভুলে যান বলেই অমনটি বলে সান্ত্বনা পান।
প্রত্যেক দলের একটি শ্রেণীচরিত্র আছে। আলাদা স্বভাব ও মর্জি আছে। যারা টকশোতে চোখ তুলে নেয়ার কথা বলেনÑ তারা সেই শ্রেণীচরিত্রেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটান। কালো বিড়াল তত্ত্বটাও সুরঞ্জিতের চরিত্রের সাথে যেত না, যদি তিনি আওয়ামী লীগার না হতেন। আবুল চরিত্রও তথৈবচ।
সিরাজুল আলম খান ওরফে দাদার যে স্বাধীন বাংলা নিউকিয়াসের গল্প শুনি, আগরতলা মামলার যে কাহিনী আজ শোনানো হয়Ñ ’৭০ সালেও জনগণকে এসব ‘ষড়যন্ত্র’ বলে ফায়দা তুলেছে আওয়ামী লীগ। অতএব আজ যারা ইতিহাসের নাড়ি ছিঁড়ে সব অতীতকে খণ্ডিত স্বাধীনতার মোহনায় ফেলে বাহবা নিচ্ছেন তারা ইতিহাস তস্কর। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দোহাই দিয়ে যেসব তত্ত্ব কপচাচ্ছেন সবই বোগাস।
ক’দিনের আগের একটা লেখায় উল্লেখ করেছি ভারত আমাদের প্রতিবেশী, কিন্তু কখনো সুপ্রতিবেশী ছিল না। বঙ্গভঙ্গের সময়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালে, দেশ বিভাগের সময়সহ ইতিহাসের সব বাঁকে তারা চেয়েছে পূর্ববাংলাকে দাবিয়ে রাখতে। একাত্তর ব্যতিক্রম। আমাদের লাগাতার মুক্তি আন্দোলনে কখনো তারা নৈতিক সমর্থনও জোগায়নি। অথচ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বুকের কপাট খুলে দিয়ে সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছে। কারণ তাদের স্বার্থটা ছিল বৈরী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শোধ নেয়ার সুযোগ। ষাট বছর ধরে কাশ্মির স্বাধীনতা চেয়ে রক্ত ঢালছে তাদের জন্য ভারত অনুদার। পুরো কাশ্মিরকে ক্যান্টনমেন্ট বানিয়ে রেখেছে। সেভেন সিস্টার স্বাধীনতার জন্য প্রতিনিয়ত মরছে, তাদের জন্য ভারতের হৃদয় গলে না। শিখরা স্বাধীনতা চেয়ে আত্মাহুতি দিলো, ভারতের স্বাধীনতাপ্রেম উথলে উঠল না। যত প্রেম আমাদের জন্য কেন? শুধু ইলিশ কূটনীতি আর মৈত্রীর সেতুবন্ধনের জন্য, মোটেও না। আমরা হায়দারাবাদের ইতিহাস জানি। বাহাদুর শাহ জাফরের ক্ষমতা যখন ইংরেজরা উপড়ে ফেলছিল কিংবা শেরে মহিশূর টিপুর সাথে ইংরেজদের নিষ্ঠুর আচরণ যখন অনেককে কাঁদিয়েছে তখনকার ইতিহাসও অজানা নয়। এখন ভারত যে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সরকারের বন্ধু সাজে তার আর শত্রুর প্রয়োজন হয় না। আগে বলা হতো, যুক্তরাষ্ট্র যাদের বন্ধু তাদের আর শত্রুর প্রয়োজন হয় না।
ভারত কখনো সুহৃদ ভেবে আওয়ামী লীগের পাশে দাঁড়ায় না, নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে। খুদ-কুড়াখোর কিছু পরজীবী বুদ্ধিজীবী বিবেক বিক্রি করে তৃপ্তি পায়। বামপন্থী হিসেবে একশ্রেণীর সুবিধাবাদী অস্তিত্ব রক্ষা ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতিতে সক্রিয় হতে আওয়ামী লীগকে ব্যবহার করে।
যারা ভারতীয় মাওবাদী আন্দোলন সম্পর্কে খোঁজখবর রাখেন, চারু মজুমদারের নকশালবাড়ি আন্দোলনের মাজেজা বোঝেন- তারা ভারতীয় রাজনৈতিক শক্তির চাণক্য ধারা ও কৌটিল্য শাস্ত্রের গভীরতা বুঝতে পারবেন। তখনই বোঝা যাবে দিল্লির ক্ষমতা বলয় কী জিনিস।
তাই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের সাফল্য একটাই তারা দেশের, জনগণের স্বার্থ ও বোধবিশ্বাসের বিরুদ্ধে ব্যবহার হয়েছে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে। এই ব্যবহার করেছে দিল্লি, কিছু দাতা সংস্থা ও এনজিও। গণবিচ্ছিন্ন বামপন্থী রাজনীতিবিদ যারা তারাও সার্থকভাবে ব্যবহার করেছে। তাতে আওয়ামী লীগ নিজেদের শ্রেণীচরিত্রই শুধু হারায়নি, ইমেজ সঙ্কটেও পড়তে যাচ্ছে।
আওয়ামী লীগ জোয়ারের সময় ফুঁসে ওঠে, ভাটার টানে হারিয়ে না গেলেও খেই হারায়। সম্ভবত এবার ভাটার টান তাদেরকে অনেক দূরে ছিটকে ফেলবে। দায়টা অন্য কারো নয়, ব্যবহৃত হওয়ার খেসারতই হবে সেই ছিটকে পড়ার কারণ।
digantaeditorial@gmail.com

0 comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Ads