রবিবার, ১৬ মার্চ, ২০১৪

গায়েবি ভোট বনাম সুষ্ঠু নির্বাচন


অদ্ভুত এক নির্বাচন। গায়েবি ভোটে বোঝাই বাক্স। কোথাও আবার ভোটবোঝাই বাক্স নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের কর্মীদের ভোঁ-দৌড়। ব্যাপক জাল ভোট, কেন্দ্র দখল আর ব্যালট ছিনতাইয়ে কলঙ্কিত হয়েছে উপজেলা নির্বাচনের তৃতীয় ধাপ। সঙ্ঘাত, সহিংসতা ও ক্ষমতাসীনদের শক্তির মহড়ায় কেন্দ্রে যেতে পারেননি কেউ কেউ। অভাবনীয় জালিয়াতিতে সরকার সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে বাক্স ভরা হয়েছে গায়েবি ভোটে। মিনিটে ছয় ভোট কাস্ট হয়েছে একটি কেন্দ্রে। বরিশালে একাই ৪০০ ভোট দিয়েছেন এক ছাত্রলীগ নেতা। নজিরবিহীন এ ভোটকালে শরীয়তপুর ও বাগেরহাটে সহিংসতায় মারা গেছেন দুজন। অন্তত সাতটি উপজেলায় কেন্দ্র দখল ও জাল ভোটের অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জন করেছেন বিএনপি ও ১৯ দল সমর্থিত প্রার্থীরা” Ñমানবজমিন।
প্রথম দফা উপজেলা নির্বাচন ছিল শান্তিপূর্ণ। দ্বিতীয় দফায় অল্প কিছু এলাকায় সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল। আর গতকাল শনিবার (১৫ মার্চ) তৃতীয় ধাপে সহিংসতা ও ভোট জালিয়াতির মাত্রা ছাড়িয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ব্যালট ছিনতাই ও সংঘর্ষে আহত হয়েছেন দুই শতাধিক। নির্বাচনী সহিংসতায় তিনজনের মৃত্যু হলো। নির্বাচনে ভোট কারচুপি ছাড়াও কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই, এজেন্টদের বের করে দেয়া, জোর করে সিল মারার ঘটনাগুলো সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সুষ্ঠু নির্বাচনের অঙ্গীকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। প্রথম আলোর আঞ্চলিক কার্যালয়, জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, গতকাল দুই শতাধিক এলাকায় সংঘর্ষ ও ভোট কারচুপির ঘটনা ঘটেছে”  প্রথম আলো।
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে দেশের বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের সংঘর্ষ হয়েছে। গত দুধাপের তুলনায় এই ধাপে সহিংসতা আরো বেড়েছে। কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই, সহিংসতা আর পুলিশের গুলির মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে তৃতীয় ধাপের নির্বাচন। ৮১ উপজেলায় নির্বাচনী সংঘর্ষে ৩ জন মারা গেছেন। তৃতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনের ভোট গ্রহণের দিন প্রশাসনের উপস্থিতিতেই প্রতিপক্ষের এজেন্টদের বের করে দিয়ে জাল ভোট প্রদান, কেন্দ্রে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ব্যালট পেপার কেড়ে নেয়া, সাংবাদিকদের ওপর হামলা করে ক্যামেরা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে। প্রিজাইডিং অফিসার লাঞ্ছিত, ভোটারকে মারধর, ককটেল বিস্ফোরণ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়েছে একাধিক কেন্দ্রে। প্রথম ধাপের উপজেলা নির্বাচন সুষ্ঠু হলেও দ্বিতীয় ধাপে সহিংসতা ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকে। তৃতীয় ধাপের নির্বাচনের দিন সকাল থেকেই ইসিতে অভিযোগ আসতে থাকে। বিক্ষিপ্ত সহিংসতা, সরকারি দলের প্রার্থীদের ব্যালট পেপার ও বাক্স ছিনতাই, প্রতিপক্ষের পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়া, কেন্দ্র দখল, পুলিশের পক্ষপাতমূলক আচরণ ছিল সারা দিন। কাল বাধ্য হয়ে কমিশন ২৬টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করার আদেশ দেন”  দৈনিক ইত্তেফাক।
তৃতীয় ধাপের ৮১টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে তিনটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরের অংশবিশেষ উপস্থাপিত হলো। এ থেকে যেকোনো পাঠকের বুঝতে অসুবিধা হবে না, বর্তমান সরকার ও বর্তমান নির্বাচন কমিশন কী অদ্ভুত ধরনের একটি উপজেলা নির্বাচন ধাপে ধাপে আমাদের উপহার দিয়ে চলেছে! অন্য জাতীয় দৈনিকগুলোতে প্রকাশিত খবর পাঠ করলেও দেশবাসী উপজেলা নির্বাচনসংক্রান্ত একই ধরনের ধারণা বা বার্তাটি পাবেন। তবে কী ধরনের তাপ-উত্তাপের সহিংসতা যে এ নির্বাচনে ক্ষমতাসীনেরা চালিয়ে যাচ্ছে, তার কিছু আন্দাজ-অনুমান করা যায়, এমন দু-একটি ঘটনার উল্লেখের তাগিদ অনুভব করছি। এসব সরেজমিন ঘটনার বিবরণও গতকালের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে।
দৈনিক প্রথম আলো ফেনীর দাগনভূঞার নির্বাচন চিত্রতুলে ধরে গতকাল এক প্রতিবেদনে লিখেছে : ভোর ৪টার দিকে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার সিন্দুরপুর ইউনিয়নের অলাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ঢুকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর কর্মীরা জোর করে ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করেন। খবর পেয়ে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীসহ অন্য প্রার্থীর কর্মীরা ভোর ৫টার দিকে কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে ব্যালট পেপার ভর্তি তিনটি বাক্স ছিনিয়ে নিয়ে যান। সকাল ৮টায় ভোট গ্রহণের জন্য কোনো ব্যালট পেপার না থাকায় প্রিজাইডিং অফিসার আবদুল কাইয়ুম ওই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত ঘোষণা করেন। দাগনভূঞায় গত শনিবারের নির্বাচনে এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। অন্তত আরো একটি কেন্দ্রে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর কর্মীরা পূর্ব চন্দ্রপুর ইউনিয়নের দরারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে অন্য প্রার্থীর এজেন্ট এবং ভোটারদের বের করে দিয়ে ব্যালট পেপারে সিল মারেন। দুপুরে বিএনপির কর্মীরা ওই কেন্দ্রে ঢুকে ব্যালটভর্তি বাক্স ছিনিয়ে নেন। পরে ওই কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করা হয়। বেলা ২টার পর দাগনভূঞা আলাইয়ারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আকবর হোসেনের কর্মীরা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালান। এ নিয়ে গোলযোগ হলে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়। এভাবে গণসিল ও জাল ভোট আর কেন্দ্র দখলের মধ্য দিয়ে গত শনিবার দাগনভূঞা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। সরেজমিনে ২০টি কেন্দ্র পরিদর্শন করে নির্বাচনের প্রায় একই চিত্র দেখা যায়। বিএনপি সমর্থিত এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ ১১ জন প্রার্থী ভোট ডাকাতি ও প্রহসনের নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের অভিযোগ ৬২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫০টি ভোট কেন্দ্র আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী দিদারুল কবিরের লোকজন দখলবাজি করেছেন।
দৈনিক মানবজমিন তৃতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনের দিনে এক মন্ত্রীর কীর্তিকলাপ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে গতকাল। এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় “এক মিনিট কেন্দ্রে থাকলে তোদের লাশ পড়বে, সাংবাদিক মারলে কী হয়? এই মুহূর্তে কুমিল্লা ছাড়বি। তা না হলে সবগুলোকে পুলিশে দেবো। এভাবে ঢাকা থেকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে উপজেলা নির্বাচন কভার করতে আসা বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও টেলিভিশন সাংবাদিকদের হুমকি দেন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের পিএ মোশাররফ হোসেন। পাশাপাশি সকাল থেকেই এই উপজেলার ১৩০টি কেন্দ্রের ৭৩টি দখল করে নেয় মন্ত্রীর লোকজন। এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘটনাকে ভোট ডাকাতির উৎসব হিসেবে আখ্যায়িত করেন ১৯ দলীয় জোটের নেতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমদ। আর ১৯ দলীয় জোট সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী উপজেলা নির্বাচন স্থগিত চেয়ে ১৬ মার্চ চৌদ্দগ্রামে হরতালের কর্মসূচি দেন। সকাল ১০টায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার অশ্বদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পৌঁছলে দেখা যায়, রেলমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী মোশাররফ হোসেন শতাধিক ক্যাডার নিয়ে কেন্দ্রের সামনে মহড়া দিচ্ছেন। এ সময় তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজেকে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দেন। সাংবাদিকেরা কেন্দ্র পরিদর্শন করতে চাইলে তিনি ক্ষেপে যান। পাল্টা সাংবাদিকদের পরিচয় জানতে চান। একপর্যায়ে সাংবাদিকদের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে নিজেকে মন্ত্রীর পিএ পরিচয় দিয়ে সাংবাদিকদের আটক করে পুলিশে দেয়ার হুমকি দেন। এ সময় তার ক্যাডার বাহিনী সাংবাদিকদের ঘিরে ধরে গালাগাল করে। একই সাথে সাংবাদিকদের টানাহেঁচড়া করতে থাকে। সাংবাদিকদের পেটানোর জন্য মোশাররফ লাঠি আনতে নির্দেশ দেন তার ক্যাডার বাহিনীকে। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে জোরপূর্বক ধাক্কা দিয়ে সাংবাদিকদের গাড়িতে তুলে দেন তিনি। এ (মানবজমিন) প্রতিবেদকের মুঠোফোনটিও জোর করে ছিনিয়ে নেন তিনি। মোবাইল ফোনটি ফেরত চাইলেও মেরে ফেলার হুমকি দেন। ফোনটি কয়েক ঘণ্টা নিজের কাছে রেখে বিকেলে তা ফেরত দেন স্থানীয় সাংবাদিকের মাধ্যমে। মন্ত্রীর পিএর উপস্থিতিতেই কেন্দ্রের ভেতর দেদার জাল ভোট চলছিল...।
চৌদ্দগ্রামে যে এমনটি ঘটবে তা আগেই আশঙ্কা করা হয়েছিল। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এমন আশঙ্কার কথা প্রকাশ করে খবরও প্রকাশ করা হয়েছিল। তখন খবরে জানানো হয়, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সফর করেন। তার সাথে তখন প্রটোকলের গাড়ি ও সরকারি কর্মকর্তারাও ছিলেন। ছিলেন স্থানীয় নেতাকর্মীরাও। ভোটের আগের দিন চৌদ্দগ্রামে মন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে ছোট হলেও শক্তি প্রদর্শন চালায় আওয়ামী লীগ। অথচ উপজেলা নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, একজন মন্ত্রী উপজেলা নির্বাচনে কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে অংশ নিতে পারেন না। ভোটের আগে কোনো অনুষ্ঠানে তার যোগ দেয়ার কথা নয়। তবে ভোটের মন্ত্রী ভোট দেয়ার জন্য তার এলাকায় যেতে পারেন।
দাগনভূঞা ও চৌদ্দগ্রামের এ দুটি ঘটনা প্রমাণ করে আওয়ামী লীগের হাতে মানুষের ভোটাধিকার নিরাপদ হওয়ার বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা নেই। আর তা নিশ্চিত প্রমাণ করে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ না নেয়ার ক্ষেত্রে বেগম জিয়ার সিদ্ধান্ত ছিল শতভাগ সঠিক একটি সিদ্ধান্ত। সে নির্বাচনে আজকের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চেয়ে শতগুণ প্রাবল্য নিয়ে চলত ভোটকেন্দ্র দখল। ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্স ছিনতাই, প্রতিপক্ষের এজেন্টদের বের করে দেয়া, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও প্রশাসনকে প্রভাবিত করার মতো নানা কর্মকাণ্ড। তৃতীয় ধাপের নির্বাচনের পর দেশের মানুষের কাছে আরেকটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে গেছেÑ উপজেলা নির্বাচনের প্রতিটি ধাপেই নির্বাচনী অনিয়ম ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রাবল্য বেড়েই চলেছে। সেই সাথে এ সত্যকেই প্রবল করে তুলছে, জাতি হিসেবে আমরা এমন সহিষ্ণু পরিবেশে নেই যে পরিবেশে দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় কিংবা স্থানীয় কোনো নির্বাচনই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হতে পারে। তাই অবিলম্বে দলীয় প্রভাবমুক্ত হয়ে আমরা যাতে আগামী জাতীয় নির্বাচন নির্দলীয় সরকারের অধীনে করতে পারি, তার একটা সূত্র বের করতেই হবে।
এরই মধ্যে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তিনটি ধাপ আমরা পেরিয়ে আসছি। এই তিনটি ধাপের নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আমরা দেখেছিÑ আগের ধাপের চেয়ে পরের ধাপের সরকারি দলের প্রার্থীরা ভোট ডাকাতিতে বেশি থেকে বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠছেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, আগামী দুটি ধাপেও একই ধারা চলবে। ফলে বিবেকবান মানুষের প্রশ্নÑ তাহলে অবশিষ্ট দুই ধাপ নির্বাচনে নির্বাচনী বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতা কোথায় নিয়ে আমাদের দাঁড় করাবে? প্রকৃতপক্ষে প্রথম দফা নির্বাচনে কার্যত আওয়ামী লীগের এক ধরনের ভরাডুবি ঘটে। এর ফলে দ্বিতীয় দফায় জোরজবরদস্তির মাধ্যমে সে ভরাডুবির মাত্রা কমিয়ে আনার চেষ্টা চলে। তৃতীয় দফায় এ প্রবণতা আরো বেড়ে যায়। তৃতীয় দফায় যে ধরনের জবরদখল চলেছে, তাতে নির্বাচন নিয়ে দেশের মানুষের হতাশার মাত্রা যে আরো বেড়ে যাবে, সে ব্যাপারে সন্দেহের অবকাশ নেই। প্রশ্ন জাগেÑ এরপর আমাদের গন্তব্য কোথায়?
এ ধরনের নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্যই বোধ হয় সবচেয়ে বড় ধরনের ক্ষতি বয়ে আনবে। কারণ, এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নিজেও কার্যত এক সময় নিজের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলার মতো একটি পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়াবে। সাধারণ মানুষ এ দলটির প্রতি আস্থার সর্বশেষ স্থানটুকুও খুঁজে পাবে না। বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের গভীরভাবে ভাবতে হবে। নিতে হবে সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত। বেরিয়ে আসতে হবে স্বচ্ছতায়, জবাবদিহিতায়।
কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার তেমনটি করবে, তেমন ভরসাও পাই না। এত কিছুর পর তারা বলেনÑ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। তাদের সাথে সাথে সরকারের বশংবদ নির্বাচন কমিশনও বলে, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। অতএব আশার জায়গাটা আর থাকে কোথায়?


 

0 comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Ads