বৃহস্পতিবার, ২৯ মে, ২০১৪

বেগম জিয়ার দাবি মেনে নিন


বিএনপির চেয়ারপারসন ও ১৯ দলীয় জোটনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুম-খুন ও দমন-নির্যাতন বন্ধ করে অবিলম্বে নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচন দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। রাজধানীতে পরপর কয়েকটি সমাবেশ করতে গিয়ে বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর গত বুধবার মুন্সীগঞ্জে অনুষ্ঠিত এক বিরাট জনসভায় বেগম জিয়া বলেছেন, জনগণকে তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করে অবৈধ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে বলেই সরকার এখন জনআতঙ্কে ভুগছে। এজন্যই সরকার বিরোধী কোনো দলকেই সভা-সমাবেশ করতে দিচ্ছে না। সরকার একইসঙ্গে বিরোধী দলকে নির্মূল করার জন্যও মরিয়া হয়ে উঠেছে। এই ইচ্ছা পূরণ করার জন্য ক্ষমতাসীনরা পুলিশের সঙ্গে এলিট বাহিনী র‌্যাবকেও ব্যবহার করছে। নিজেদের জন্য নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরে গিয়ে সরকারের রাজনৈতিক কর্মকা-ে অংশ নিতে হচ্ছে বলে র‌্যাবও এখন গুম ও খুনের ব্যবসায় নেমে পড়েছে। নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশে চলমান গুম ও খুনের বর্ণনা দিয়ে বেগম জিয়া বলেছেন, অবিলম্বে র‌্যাবকে বিলুপ্ত করতে হবে। সামরিক বাহিনী থেকে আগত যেসব কর্মকর্তা গুম-খুন ও ঘুষবাণিজ্যের জন্য অভিযুক্ত হয়েছেন তাদের শুধু বরখাস্ত করলে বা অবসরে পাঠালে চলবে না, সামরিক আইনে বিচার করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। সরকারের দমন-নির্যাতনের তীব্র সমালোচনা করে বেগম জিয়া বলেন, এই সরকার জনগণকে অনেক কাঁদিয়েছে। এবার তাদের কাঁদতে হবে। গুম-খুন ও দমন-নির্যাতনসহ একদলীয় শাসনের জন্য জনগণ এর আগে ২১ বছর আওয়ামী লীগকে ক্ষমতার বাইরে রেখেছিল। এবার জনগণ তাদের ঝেঁটিয়ে বিদায় করবে এবং আগামী ৪২ বছরেও আওয়ামী লীগ আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। এভাবে কঠোর বিভিন্ন বক্তব্য রাখার পাশাপাশি বেগম জিয়া সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথও দেখিয়েছেন। বলেছেন, অবৈধ সরকারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করে নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন সংসদ নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। দাবি না মানার পরিণতি সম্পর্কেও সতর্ক করেছেন বেগম জিয়া। বলেছেন, দাবি না মানা হলে এমন গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে যখন হাজার গুলীতেও কোনো কাজ হবে না। ক্ষমতাসীনরা তখন পালানোরও পথ পাবেন না। সরকার কত গুলী করতে এবং কত মানুষের জীবন কেড়ে নিতে পারে সেটাও দেখা হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি।
বলার অপেক্ষা রাখে না, শুনতে যথেষ্ট কঠোর হলেও বিএনপির চেয়ারপারসন সামান্যও বাড়িয়ে বলেননি। গুম-খুন এবং নিষ্ঠুর দমন-নির্যাতন ও গ্রেফতারের মাধ্যমে দেশের প্রধান দুই দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দলগুলোকে বাইরে রেখে নির্বাচনের নামে যে অগণতান্ত্রিক পন্থায় বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে সে সম্পর্কে প্রথম থেকেই জেনেছে বিশ্ববাসী। দেশের মানুষ তো সব কিছু চোখের সামনেই দেখেছে। একের পর এক গুম-খুন ও লাশের মিছিলও দেখতে হচ্ছে জনগণকে। একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে সরকার একইসঙ্গে বিরোধী দলগুলোকে মিছিল-সমাবেশও করতে দিচ্ছে না। মানববন্ধনের মতো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিও পালন করতে পারছে না কোনো দল, এমনকি অরাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনগুলোও। একযোগে দেশের সব অঞ্চলেই চলছে সাদা পোশাকে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করার ভয়ঙ্কর অভিযান। এরও শিকার হচ্ছেন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা। আপত্তি ও প্রতিবাদের একটি বড় কারণ হলো, দলীয় গু-া সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি এসব কাজে পুলিশ ও র‌্যাবকেও নির্বিচারে ব্যবহার করে চলেছে সরকার। বিষয়টি পরিষ্কার হয়েছে বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনায়। তখন থেকেই র‌্যাবকে বিলুপ্ত করার দাবি তুলেছেন বেগম জিয়া। বস্তুত সন্ত্রাস দমনের প্রধান উদ্দেশ্য নিয়ে চারদলীয় সরকারের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এলিট বাহিনী র‌্যাব এরই মধ্যে এক আতঙ্কের বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। এজন্যই বেগম জিয়ার দাবি সমর্থিত হয়েছে দেশের সকল মহলে। আমরাও মনে করি, জনগণের ট্যাক্সের অর্থে বেতন পাওয়া কোনো বাহিনীকে দিয়ে সরকারের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য গুম ও খুনের মতো ভয়ঙ্কর ধরনের অপরাধ সংঘটিত করার কোনো সুযোগ থাকতে পারে না। সরকারের তাই অবিলম্বে র‌্যাবকে বিলুপ্ত করা উচিত। সরকারকে একইসঙ্গে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানেরও পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ, বেগম জিয়া যথার্থই বলেছেন, কোনো দিক থেকেই এ সরকারের কোনো বৈধতা নেই। ভারত ছাড়া বিশ্বের অন্য কোনো রাষ্ট্রও সরকারকে পরিপূর্ণরূপে স্বীকৃতি দেয়নি। এ সবের সঙ্গে গুম-খুন ও দমন-নির্যাতনকে বিবেচনায় নেয়া হলে স্বীকার না করে উপায় থাকে না যে, বর্তমান সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকারই নেই। সমগ্র এ প্রেক্ষাপটেই আমরা বেগম জিয়ার দাবিকে যুক্তিসঙ্গত ও গণতন্ত্রসম্মত মনে করি। ক্ষমতাসীনদের উচিত অবিলম্বে পদত্যাগ করা এবং বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন একটি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পদক্ষেপ নেয়া। আমাদের ধারণা, সময় থাকতে গণতন্ত্রসম্মত এ পথটিতে পা না বাড়ালে বেগম জিয়ার উচ্চারিত হুঁশিয়ারি সত্য হয়ে উঠতে পারেÑ যার মূলকথায় তিনি বলেছেন, ভালোয় ভালোয় বিদায় না নিলে জনগণ এ সরকারকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করবে এবং আওয়ামী লীগের পক্ষে আগামী ৪২ বছরেও আর ক্ষমতায় আসা সম্ভব হবে না।

0 comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Ads