শনিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০১৫

আমির খান শাহরুখ খান ও এ আর রহমানের বিরুদ্ধে শিবসেনা ও হিন্দু পরিষদের হুঙ্কার


ভারতে হিন্দু সাম্প্রদায়িকতা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপির ভূমিধস বিজয়ের পর ভারতের নতুন কেন্দ্রীয় সরকার ভারতবাসী এবং সেই সাথে বিশ্ববাসীকে দেখাতে এবং বোঝাতে চেষ্টা করেন যে, বর্তমান সরকার তার অতীতের সাম্প্রদায়িক রং মুছে ফেলে দিচ্ছে। কিন্তু যতই দিন যাচ্ছে ততই দেখা যাচ্ছে যে, ঐগুলি ছিল নেহায়েত আইওয়াশ বা ধোঁকাবাজি। যদি তা না হয় তাহলে আরও ভয়ের কথা। সেক্ষেত্রে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে যে, বিজেপি তার প্যারেন্ট সংগঠন আরএসএসের কবল থেকে মুক্ত হতে পারেনি।
নরেন্দ্র মোদির ক্ষমতা গ্রহণের পর ১ বছর ৫ মাস হয়ে গেছে। অথচ যতই দিন যাচ্ছে ততই দেখা যাচ্ছে যে, বিজেপির মিত্র সংগঠনগুলো উগ্র সাম্প্রদায়িক রূপ নিচ্ছে। ভারতে হিন্দু সমাজ যখন সাম্প্রদায়িক হয়ে যায় তখন তার অবধারিত পরিণতিতে তার অভিঘাত এসে পড়ে সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায়ের ওপর। এবারও তাই হয়েছে। গরু জবাই করা বা গো-মাংস ভক্ষণ করা না করা নিয়ে ভারতের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় যে মহড়া দিচ্ছে তার পরিণতিতে ইতোমধ্যেই ৩/৪ জন মুসলমানের প্রাণ গেছে। এখন উগ্রবাদী হিন্দুরা হাত বাড়িয়েছে ভারতীয় সমাজে প্রতিষ্ঠিত মুসলমানদের ওপর। তাদের সেই হিন্দু উগ্রবাদের শিকার হয়েছেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র মি. পারফেক্টশনিস্ট বলে খ্যাত অভিনয় শিল্পী আমির খানের ওপর। আমির খানের বিরুদ্ধে উগ্রবাদী হিন্দুদের মহড়া এমন পর্যায় পৌঁছেছে যে, বিষয়টি ভারতের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান পার্লামেন্ট বা লোকসভায় উত্থাপন করেছেন কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নেতা মিসেস সোনিয়া গান্ধী। সোনিয়া গান্ধী এতদূরও বলেছেন যে, সম্প্রতি ভারতে এমন কিছু ঘটছে, যার ফলে ভারতীয় সংবিধানের মূলনীতি এবং মূল্যবোধ বিনষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। লক্ষ্য করার বিষয় এই যে, সোনিয়া গান্ধী এমন এক ব্যক্তি যার মন্তব্য হালকাভাবে নেওয়া যায় না। এই তো দেড় বছর আগেও সমগ্র ভারতে দুই দুইটি মেয়াদে ক্ষমতায় ছিল কংগ্রেস। আর সেই সরকারের প্রধানমন্ত্রী না হলেও, প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং তথা কংগ্রেস সরকারের নেপথ্য চালিকা শক্তি ছিলেন মিসেস সোনিয়া গান্ধী। আগামীতে কংগ্রেস যদি পুনরায় ক্ষমতায় আসে তাহলে বয়সের কারণে সোনিয়া প্রধানমন্ত্রিত্ব গ্রহণ না করলেও প্রধানমন্ত্রীর গদিতে আসীন হবেন তারই ছেলে রাহুল গান্ধী।
গত বৃহস্পতিবার লোকসভায় সংবিধানের ওপর বিশেষ আলোচনাকালে সোনিয়া গান্ধী মোদি সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, “সাম্প্রতিককালে সংবিধানের নীতিমালার প্রতি হুমকি দেখা দিয়েছে। বিগত কয়েক মাসে আমরা যা দেখেছি সেটি সংবিধানের মূল্যবোধের চরম লঙ্ঘন।” ভারতের জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল ‘এনডিটিভির’ খবরে বলা হয় যে, লোকসভার চলতি শীতকালীন অধিবেশনে বক্তৃতা প্রসঙ্গে সোনিয়া গান্ধী বলেন, ভারতে এখন দেখা যাচ্ছে ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা। তিনি বলেন, একটি সংবিধান যতই ভাল হোক না কেন, যারা সেই সংবিধান বাস্তবায়ন করে তারা খারাপ হলে সেই ভাল সংবিধানও খারাপ হয়ে যায়। পক্ষান্তরে একটি সংবিধান যতই খারাপ হোক না কেন, যারা সেই সংবিধান বাস্তবায়ন করে তারা যদি ভাল লোক হয় তাহলে একটি খারাপ সংবিধানও ভাল হয়ে যায়। পক্ষান্তরে লোকসভায় বিজেপির উপনেতা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী রাজ নাথ সিং বলেন, “দেশে আজ যে শব্দটির সবচেয়ে বেশি অপব্যবহার করা হচ্ছে সেটি হলো সেক্যুলারিজম। এই অপব্যবহার অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। এই শব্দের অপব্যবহারের ফলে ভারতীয় সমাজে আজ উত্তেজনা এবং অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, ভারতীয় সংবিধানের শুরুতে সেক্যুলারিজম এবং সোশ্যালিজম শব্দ দুটি ছিল না। কিন্তু কংগ্রেস নেত্রী ইন্দিরা গান্ধী ক্ষমতায় আসার পর শব্দ দুটি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়। তিনি বলেন, হিন্দিতে সেক্যুলারিজমের অর্থ ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ নয়। এর হিন্দি অর্থ হলো, পন্থ বা পথ নিরপেক্ষতা। অর্থাৎ অসাম্প্রদায়িক হওয়া। আপনি যেই হোন না কেন, এবং যে ধর্মেই আপনি বিশ্বাসী হোন না কেন, ভারতের নাগরিক হিসেবে অবশ্যই আপনি একজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি।”
বামপন্থী নেতা সীতা রাম ইয়াচুরি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী রাজ নাথ সিংয়ের বক্তৃতার মধ্য দিয়ে ফুটে বেরিয়েছে বিজেপির আসল মতলব। তারা চায় একটি হিন্দু রাষ্ট্র। আরএসএস কোনোদিন ধর্ম নিরপেক্ষতাকে গ্রহণ করেনি। তিনি বলেন, রাজ নাথ সিং সেক্যুলারিজমের যে হিন্দি অর্থই বলুন না কেন সমস্ত সরকারি কাগজপত্রে, এমনকি সংসদের বিলসমূহেও সেক্যুলারিজমের অর্থ করা হয়েছে ধর্ম নিরপেক্ষতা।
পক্ষান্তরে সোনিয়া গান্ধী বলেন, আমরা বিগত কয়েক মাসে দেখছি সংবিধানের সম্পূর্ণ লঙ্ঘন।
॥দুই॥
ঢাকার একটি বাংলা পত্রিকার দিল্লী প্রতিনিধি প্রেরিত খবরে প্রকাশ, কংগ্রেসের চলতি শীতকালীন অধিবেশনে সংবিধান নিয়ে এবং সেই সুবাদে ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে যে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে, নাম নেওয়া না হলেও সেই বিতর্কের কেন্দ্র ছিলেন ভারতের হিন্দি ছবির জনপ্রিয় নায়ক আমির খান। ভারতীয় সংবিধানের অন্যতম রূপকার বাবা সাহেব ভীমরাও আম্বেদকরের ১২৫ তম জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে কংগ্রেসের বিশেষ অধিবেশন হচ্ছে। আমির খানের নাম না ধরলেও বিজেপির দ্বিতীয় প্রধান ব্যক্তি রাজ নাথ সিং বলেন, জীবনকালে আম্বেদকরকে প্রবল প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে এগোতে হয়েছে, পদে পদে বাধা পেতে হয়েছে, কিন্তু তিনি কোনো দিন দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা ভাবেননি। আমির খান গত সোমবার এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতার ঘটনাগুলোয় তিনি আতঙ্কগ্রস্ত। তিনি বলেন, ‘নিজের সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিরণ (আমির খানের স্ত্রী) এতটাই উদ্বিগ্ন যে আমাকে একদিন জিজ্ঞেস করেছিল, আমাদের কি ভারত ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত?’ আমির খানের এ মন্তব্যে ভারতে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়। বিতর্ক শুরু হয় বলিউডের ভেতরেও। আমিরের পাশে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত কেউ কেউ দিলেও, আক্রমণই সহ্য করতে হয় বেশি।
আমির খানের সাম্প্রতিক মন্তব্য ভারতে চলমান ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার একটি বহিঃপ্রকাশ। ভারতে স্বাধীন মত প্রকাশকারী একজন শিক্ষাবিদকে সম্প্রতি হত্যা করা হয়। এ ছাড়া গরুর মাংস নিয়ে গুজবের জেরে সহিংস হামলায় আরও দুজন নিহত হন। এসব ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে ভারত জুড়ে সাহিত্যিক, চলচ্চিত্রকারসহ অন্তত ৭৫ বিশিষ্ট ব্যক্তি তাদের পুরস্কার ফিরিয়ে দেন।
সংসদে রাজনাথ বলেন, ধর্মনিরপেক্ষ ও সমাজতন্ত্র শব্দ দুটি সংবিধানের প্রস্তাবনায় প্রথমে ছিল না। কারণ, আম্বেদকর মনে করেছিলেন, দুটি বিষয়ই ভারতের মূল প্রকৃতির মধ্যে নিহিত। রাজনাথ বলেন, এ দেশে যে শব্দটির অপব্যবহার সবচেয়ে বেশি, তা হলো ধর্মনিরপেক্ষ। এই শব্দটির বদলে ‘পন্থ (পথ) নিরপেক্ষ’ ব্যবহার হওয়া উচিত।
আমির খান জানিয়েছেন, তার স্ত্রী কিরণ রাও সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে ভীষণ ভীত হয়ে পড়েছেন। আমির নিজের অবস্থান থেকে জানান, তিনি ভারতের এই ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। ইদানীং দৈনিক সংবাদপত্র পড়তেও তিনি ভয় পান। তার স্ত্রী কিরণ বলেছে যে, সে আসলেই সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছে। আমাদের চারপাশের প্রতিদিনের  বদলে যাওয়া পরিবেশ নিয়ে সে ভীত। ইদানীং সে সকালের খবরের কাগজটা খুলতেও ভয় পাচ্ছে।’ আমির খান সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন। সেখানেই তিনি এ কথা বলেন। আমির খান বলেন, প্রতিদিন সংবাদপত্র খুললে যা পড়ি তাতে একজন মানুষ হিসেবে, একজন নাগরিক হিসেবে সত্যিই বলছি, আমার ভেতরে যে ভয় ও আতঙ্ক ক্রমশ দানা বাঁধছে, তা আমি অস্বীকার করতে পারবো না।
॥তিন॥
ভারতজুড়ে ক্রমবর্ধমান এই ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার বিপরীতে প্রতিবাদ জানাতে দেশটির বিভিন্ন অংশের খ্যাতিমান ও জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক, বিজ্ঞানী, চলচ্চিত্র নির্মাতা, অভিনয় শিল্পীদের পুরস্কার প্রত্যাখ্যানের বিষয়টিকে সমর্থন করেছেন আমির খান নিজেও। তিনি জানিয়েছেন, যত দিন এই প্রতিবাদের বিষয়টি অহিংস প্রতিবাদ থাকবে ততদিন তিনি একে সমর্থন করবেন। ভারতের ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা নিয়ে আমিরের ধারণার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন সংগীত জাদুকর এ আর রহমান।
বিশ্ব হিন্দু পরিষদ সঙ্গীত পরিচালক এ আর রহমানকে ফের হিন্দুত্বে ফিরে আসার আহ্বান জানান। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, দক্ষিণ ভারতের তামিল নাড়ুতে (সাবেক মাদ্রাজ) জন্ম নেওয়া এই অসাধারণ গুণী সংগীত পরিচালক ইতঃপূর্বে হিন্দু ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি তার মাতা এবং বোনসহ সপরিবারে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হন। ১৯৬৭ সালে জন্ম গ্রহণকারী এই বিখ্যাত সংগীত শিল্পী মাত্র ২১ বছর বয়সে ১৯৮৮ সালে ইসলাম গ্রহণ করেন। তার আগের নাম ছিল এ এস দীলিপ কুমার। ইসলাম গ্রহণের পর তার নতুন নাম হয় আল্লাহ রাখা রহমান বা এ আর রহমান।
এ আর রহমান বলেন, সভ্য সমাজে এই ধরনের ঘটনা স্বাভাবিক নয়। রহমান বলেন, ‘কোনো কিছুই হিংস্র হওয়া উচিত নয়। আমরা সবাই তো সভ্য সমাজের বাসিন্দা। আমাদের গোটা বিশ্বকে দেখিয়ে দেওয়া উচিত যে আমরাই সব থেকে বেশি সভ্য।’ ঐ দিকে আমির খানের এমন মন্তব্যের পর ভারতজুড়ে আলোচনার ঝড় বইছে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে এরই মধ্যে আমিরকে ভারত ছাড়ার হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে। এমনকি অনেক অভিনেতা-শিল্পীও আমির খানের বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছেন। প্রবীণ অভিনেতা অনুপম খের টুইট করেছেন, ‘আমির কি নিজের স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করেছেন ভারত ছেড়ে তিনি কোথায় যেতে চান?’ ভারতই যে তাকে আমির খান বানিয়েছে সেটাও তাকে মনে করিয়ে দেন অনুপম খের। এর কিছুক্ষণ  পরেই বিজেপির মুখপাত্র শাহ নওয়াজ হুসেন অভিযোগ করেন, আমির খানের এই মন্তব্য ভারতকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। তার কথায়, ‘আমিরের নামডাক-ধনদৌলত সব এই ভারতের লোকই দিয়েছে। আজ সুপার স্টার হওয়ার পর তিনি যখন এ ধরনের কথা বলেন তাতে ভারতবিরোধীরাই আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের বদনাম করার সুযোগ পেয়ে যান। এতে হয়তো আমির সস্তা প্রচার পেতে পারেন, কিন্তু ভারতের গায়ে যে কালির ছিটে লেগে যায় সেটা তিনি খেয়াল করেন না।’ আমির বিরোধী এই কোরাসে যোগ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী বা ক্ষমতাসীন বিজেপির নেতারাও। ভারতের মানুষই যে তাকে আমির খান বানিয়েছেন, মনে করিয়ে দেয়া হচ্ছে সে কথাও। দেশে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে মুখ খুলে কিছুদিন আগেই বিজেপির কট্টরপন্থী নেতাদের রোষের মুখে পড়েছিলেন বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খান। তাকে পাকিস্তান চলে যাওয়ারও পরামর্শ দিয়েছিলেন কেউ কেউ।
॥চার॥
আরেক দিকে আমিরের বক্তব্যকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন রাহুল গান্ধী। কংগ্রেস আমিরের মন্তব্যকে সমর্থন করায় বিষয়টি এখন রাজনৈতিকভাবে বেশ আলোচিত হচ্ছে। তবে আমির আপাতত চুপ আছেন। ধর্মের দোহাই দিয়ে যেভাবে সন্ত্রাসবাদ দানা বাঁধছে, তা নিয়েও কথা বলেন আমির খান। আমির খান মনে করেন, ধর্মের সঙ্গে আতঙ্কবাদকে জুড়ে দেয়া উচিত নয়। আমিরের কথায়, ‘সন্ত্রাসবাদীদের কোনো ধর্ম নেই। তা সত্ত্বেও কোনো হিংসার ঘটনা ঘটলে, তার সঙ্গে ধর্মকে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। আমরা আগে খুঁজি সে ইসলামিক জঙ্গি নাকি হিন্দু জঙ্গি।
প্রভাবশালী পত্রিকা ‘দ্য হিন্দু’ বলেছে, পাঞ্জাব শিবসেনা প্রধান রাজীব ট্যান্ডন প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, ‘ভারতে অসহিষ্ণুতা বেড়েছে- এই মন্তব্য করার জন্য আমির খানের গালে কেউ চড় মারতে পারলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে এক লাখ রুপি পুরস্কার দেওয়া হবে। আমির খান শুটিং করতে পাঞ্জাবের লুধিয়ানা শহরের যে হোটেলে উঠেছেন, তার বাইরে শিবসেনা বিক্ষোভ করেছে।
তবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গতকাল কলকাতায় একটি জনসভায় বলেছেন, আমির খান যে মন্তব্যই করে থাকুন না কেন তার জন্য তাকে দেশছাড়া করতে চাওয়ার অধিকার কারও নেই। টাইমস অব ইন্ডিয়া বলেছে, অনলাইনে একটি জরিপ চালিয়ে তারা দেখেছে; অসহিষ্ণুতা ইস্যুতে আমির খানের ব্যাপারে বিজেপির অবস্থানকে ৮৫ শতাংশের বেশি মানুষ সমর্থন করে।
পাঞ্জাবে শিবসেনা নেতা রাজীব ট্যান্ডন বুধবার বলেন, ‘আমির খানের গালে যে চড় দিতে পারবে তাকে এক লাখ রুপি পুরস্কার দেওয়া হবে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আমাদের দেশে বাস করে কেউ যাতে ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস না পায়। যে কেউ, সে হোটেলের কর্মচারী কিংবা ফিল্ম ক্রু; যে-ই হোক না কেন, তাকে (আমির) চড় মারতে পারবে তাকেই লাখ রুপি পুরস্কার দেওয়া হবে।’
কট্টর হিন্দুত্ববাদী শিবসেনার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ট্যান্ডন ব্যক্তিগতভাবে এই ‘পুরস্কার’ ঘোষণা করেছেন। এটা সংগঠনের সিদ্ধান্ত নয়।
লেখাটি শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু যখন লেখাটি মেইল করব তখন অনলাইন দৈনিক ‘কালের কণ্ঠ’ এবং অনলাইন পেপার ‘আমাদের সময় ডট কমে’ এই মর্মে খবর বেরিয়েছে যে, গত শুক্রবার আমির খান ভারত ছেড়েছেন। ভারতীয় পত্রপত্রিকার বরাত দিয়ে বাংলাদেশের এই দুটি পত্রিকা লিখেছে যে, আমির খান ঠিক কোথায় গেছেন, সেটা কেউ এই মুহূর্তে সঠিক বলতে পারছেন না। তবে তার সম্ভাব্য গন্তব্য আমেরিকা বলে তার ঘনিষ্ঠ মহল ধারণা করছেন।
খবরটি এখনও কনফার্মড নয়। তাই আমরা এই মুহূর্তে এ ব্যাপারে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকলাম।

0 comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Ads