শুক্রবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৪

গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক মতপার্থক্য


গণতন্ত্র হলো সরকার গঠন ও দেশ পরিচালনার একটি পদ্ধতি। নির্বাচনের মধ্যদিয়ে জনগণের স্বাধীন মতামতের ভিত্তিতে একটি আইন পরিষদ গঠিত হয় এবং আইন পরিষদের সর্বসম্মত অথবা সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থনে একটি সরকার গঠিত হয়ে থাকে। এই সরকার দেশ চালায়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও একাধিক দল থাকা শুধু স্বাভাবিক নয়, অপরিহার্যও বটে। সমালোচনা ও সংশোধনের জন্যে লোক ও ব্যবস্থা যদি না থাকে, তাহলে নির্বাচিত সরকারও স্বৈরতন্ত্রী হয়ে দাঁড়াতে পারে। এ জন্যেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একাধিক দল ও রাজনৈতিক মতপার্থক্যের অবারিত সুযোগ থাকা অপরিহার্য। ইসলামের স্বর্ণযুগে আজকের মতো প্রাতিষ্ঠানিক রাজনৈতিক দল ছিল না, কিন্তু মতপার্থক্য, সমালোচনা ও সংশোধনের ঐ অবারিত সুযোগ ছিল। দেখা গেছে, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদাধিকারী খলিফাতুল মুসলেমিন সাধারণ একজন নাগরিকের সমালোচনা শুনছেন এবং কৈফিয়ত দিচ্ছেন। মতপার্থক্য ও সমালোচনার সুযোগ বিধিবদ্ধ হওয়ারই প্রমাণ এটি এবং এটি গণতন্ত্রের প্রাণ।
সর্ব যুগেই যেখানে গণতান্ত্রিক অথবা ন্যায়পরায়ণ শাসন ছিল সেখানেই মতপার্থক্য, মতবিরোধ, সমালোচনা ও সংশোধনের পদ্ধতি বিদ্যমান ছিল। আজ বলা যায় গণতন্ত্রের যুগ। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আজ উৎকৃষ্টতর  ব্যবস্থাই শুধু মনে করা হচ্ছে না, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকাশকে নানাভাবে পৃষ্ঠপোষকতাও দেয়া হচ্ছে। এমনকি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পক্ষে চাপ সৃষ্টির দৃষ্টান্তও দেখা যাচ্ছে। মতপার্থক্য, মতবিরোধ, সমালোচনা ও সংশোধনের প্রয়াসকে মানবাধিকারের শর্ত অপরিহার্য মনে করা হচ্ছে। এর ফলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা যেমন বিকশিত হবার সুযোগ পাচ্ছে, তেমনি মানুষের অধিকার সংরক্ষণের প্রতি সবার মনোযোগ বাড়ছে এবং মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবার সুযোগও উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বিষয়টি বর্তমান সভ্যতার একটি বড় কল্যাণকর বৈশিষ্ট্য। কিন্তু এরপরও পৃথিবীর অনেক দেশে গণতান্ত্রিক বা ন্যায়পরায়ণ শাসন নেই। অথবা দেখা যাচ্ছে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার আড়ালে স্বৈরতন্ত্র চালানো হচ্ছে মানুষের মতপার্থক্যের অধিকার, ন্যায্য সমালোচনা করা ও মতবিরোধ প্রকাশের অধিকার পদদলিত হচ্ছে। দুঃখজনক হচ্ছে, আমাদের প্রিয় এই দেশে কমবেশি এই ধরনের ব্যবস্থাই কায়েম হয়েছে। আর এটি হচ্ছে গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যেই। আজ এখানে গণতান্ত্রিক অধিকার কায়েমের চেষ্টাকে সর্ব উপায়ে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হচ্ছে এবং গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের কর্মসূচিকে অপরাধমূলক কাজ হিসেবে দেখানোর প্রয়াস চলছে। এ প্রক্রিয়ায় হাজার হাজার রাজনৈতিক নেতা-কর্মী আজ জেলে, নানাবিধ নির্যাতন ও রিমান্ডের শিকার তারা। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বাড়ছে, বই কমছে না।
এ অবস্থায় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা যখন অসহায় হয়ে পড়েছে, তখন গণতান্ত্রিক বিশ্বের একটি দায়িত্ব হলো, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে সহায়তা করা। আনন্দের বিষয় হলো, গণতান্ত্রিক দেশগুলো বিশেষ করে ইউরোপ ও আমেরিকার দেশগুলোকে এ ব্যাপারে সচেতন দেখা যাচ্ছে এবং তারা গণতন্ত্রে উত্তোরণের মাধ্যম হিসেবে একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের তাগিদ দিচ্ছে। আমরা মনে করি, বাংলাদেশের জনগণ যদি গণতন্ত্রের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয় এবং সরকার যদি গণতন্ত্রের দাবি মেনে নিয়ে গণতন্ত্রে উত্তোরণের মাধ্যম হিসেবে একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য অন্তর্বর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে এগিয়ে আসে, তাহলে আমাদের এ দেশ ও জনগণ আবার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে আসতে পারে।

0 comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Ads